খাগড়াগড় কাণ্ডের পর বর্ধমান শহরে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই সময় কিছু বিধিনিষেধ লাগু করেছিল পুলিশ। কিন্তু তার শিথিলতা ক্রমবর্ধমান। সেই সুযোগেই হামিমের মতো জঙ্গি ডেরা বাঁধছে বর্ধমানে। এবার বাড়ি মালিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক তথা রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র। এই বিষয়ে জেলা পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। একইসঙ্গে এই ঘটনার তদন্তভার এসটিএফ-এর থেকে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী।
২০১৪ সালের ২ অক্টোবর বর্ধমানের খাগড়াগড়ে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি জঙ্গি ডেরায় বিস্ফোরণ ঘটেছিল। দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল সেই ঘটনায়। খাগড়াগড়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে ডেরা বেঁধেছিল জেএমবি জঙ্গিরা। সেই ঘটনার পর পুলিশ বর্ধমানে বাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়াদের যাবতীয় তথ্য পুলিশের কাছে জমা রাখা ও ভেরিফিকেশন করানোর নিয়ম চালু করেছিল। কিন্তু তা মানছেন না অনেক বাড়ি মালিকই। বাইরে থাক আসা লোকজন সহজেই বাড়ি ভাড়া নিয়ে ডেরা বাঁধছেন শহরে। খাগড়াগড় থেকে ২ কিলোমিটার দূরে রেনেসাঁ টাউনশিপ। সেখানে ঘাঁটি গেরেছিল পাক জঙ্গি গোষ্ঠীর সদস্য হামিম মণ্ডল।
আসলে বর্ধমানে সহজেই বাড়ি ভাড়া মেলায় জঙ্গিরা সেফ জোন মনে করছে এই এলাকাকে। রেনেসাঁর যে ফ্ল্যাটে থাকত হামিম তাঁর মালিক ভিনরাজ্যে থাকেন। দালালের মাধ্যমে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়েছেন। ফলে কাকে ভাড়া দেওয়া হল তা যাচাই করাই হয়নি। এই প্রসঙ্গে রবিবার রাজ্যের শিল্প প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র বলেন, “ভয়ঙ্কর ঘটনা। সবাইকেই সতর্ক থাকতে হবে। যারা বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে তারা সব কিছু দেখে বাড়ি ভাড়া দিক। আমি পুলিশ সুপারকেও জানিয়েছি। যারা বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে তারা যদি তথ্য যাচাই না করে ভাড়া দেয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। এটা বর্ধমানের বিষয় নয়, দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন। এখন এসটিএফ তদন্ত করছে। আশা করি এনআইএ তদন্তভার নেবে।”