পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদবের উপরে হামলার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল দিল্লিতে। নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করার সময়েই এক যুবক তাঁকে জুতো ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ। তবে পাপ্পুর দাবি, ‘ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কপালজোড়ে বেঁচে গিয়েছি।’ ঘটনার পরেই অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি ছুরিও।
রামমন্দিরের অনুদান তছরূপের অভিযোগে সংসদ চত্বরে একটি পথনাটক করেছিলেন পাপ্পু। তার পরেই হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত লাগার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে FIR দায়ের হয়। সেই নিয়েই এ দিন দিল্লিতে নিজের বাসভবনে সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন তিনি। আচমকাই সেখানে ঢুকে পড়েন এক যুবক। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি পাপ্পুর দিকে জুতো ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ।
পাপ্পুর সমর্থকরা সেখানেই ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা ধরে ফেলেন অভিযুক্তকে। তার পরে বেধড়ক মারধর করে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের নাম সুমিত। তিনি উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের বাসিন্দা। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে ধৃতকে আটক করার সময়ে একটি ছুরি উদ্ধার হয়েছে। তবে সেটা হামলার উদ্দেশ্যেই আনা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়।
তবে খুনের উদ্দেশেই ওই যুবক তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন বলে দাবি করেছেন পাপ্পু। তিনি বলেন, ‘আমাকে খুন করার জন্য ছুরি নিয়ে এসেছিল। কপালজোড়ে বেঁচে গিয়েছি।’ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন নির্দল সাংসদ। তাঁর কথায়, ‘কয়েক জন সাধু রোজ বলছেন, আমাকে মারতে পারলে ৫১ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। আমার পরিবারের সদস্যদেরও হেনস্থা করা হয়েছে। আমি কিছু বলিনি।’
পুলিশের দাবি, ধৃত অভিযুক্ত জেরায় স্বীকার করে নিয়েছেন যে, সাধু-সন্তদের অপমান করায় তিনি ক্ষুব্ধ। সেই কারণেই এই কাজ করেছেন। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। X পোস্টে দিল্লি পুলিশের সমালোচনা করে তিনি লেখেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করতে দিল্লি পুলিশ যতটা তৎপর, একজন সাংসদকে নিরাপত্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে ততটাই ব্যর্থ।’ তবে জুতো ছোড়ার ঘটনা, ছুরি উদ্ধার এবং হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য-সহ গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীন এক ব্যক্তি তাঁর দিকে জুতো ছুড়ে মারেন বলে অভিযোগ। পাপ্পু যাদবের দাবি, অভিযুক্তের কাছে ছুরি ছিল এবং তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছিল।
দিল্লি পুলিশের মতে, অভিযুক্তের নাম সুমিত। তিনি উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের বাসিন্দা।
হ্যাঁ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে আটক করার সময় একটি ছুরি উদ্ধার হয়েছে। তবে সেটি হামলার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, জেরায় অভিযুক্ত বলেছেন, সাধু-সন্তদের অপমান করা হয়েছে বলে তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই কারণেই এই কাজ করেছেন।
তাঁর দাবি, তাঁকে খুন করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
কংগ্রেস নেতা পবন খেরা দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, একজন সাংসদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ জুতো নিক্ষেপের ঘটনা, ছুরি উদ্ধারের দাবি, হামলার উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সম্পূর্ণ ক্রম খতিয়ে দেখছে। তদন্ত এখনও চলছে।