• ‘যন্তর মন্তরে ছাত্রছাত্রীদের চেয়ে পাংচারওলা বেশি ছিল’, বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুরির মন্তব্যে বিতর্ক
    এই সময় | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ছাত্র আন্দোলন ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজধানী দিল্লি। পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তার পরে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও তার রেশ এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই রবিবার আন্দোলনকারীদের পরিচয় নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুরি। তিনি বলেন, ‘ওখানে ছাত্রছাত্রীদের থেকে পাংচারওলা বেশি ছিল।’

    NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনে শুধু মাত্র ছাত্রছাত্রীরা ছিল না বলেই দাবি বিজেপি সাংসদের। তাঁর কথায়, ‘যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের চেয়ে পাংচারওলারা বেশি ছিল। আপনারা বুঝতেই পারছেন আমি কাদের কথা বলছি।’ ছাত্রছাত্রীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে অশ্রাব্য গালিগালাজ করতে পারেন না বলেও দাবি তাঁর। রমেশের কথায়, ‘কোনও ছাত্র বা ছাত্রীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে গালিগালাজ করা সম্ভবই নয়। যাঁরা করেছেন, তাঁরা পাংচারওলাদের ছেলেমেয়ে বা তাদের পরিবারের সদস্য।’

    সমাজবিরোধীরা ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রমেশ সরাসরি বলেন, ‘নিটের নামে কিছু সমাজবিরোধী যন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছিল। তারা তরুণদের ভুল বুঝিয়ে সংসদে হামলার চেষ্টা করে।’ দেশে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেছেন বিজেপি সাংসদ।

    রমেশের মতে তরুণ প্রজন্মের একাংশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য যথাযথ তথ্য তুলে ধরা প্রয়োজন। সাংসদের কথায়, ‘গত ১২ বছরে দেশে কী কী পরিবর্তন হয়েছে, তার আগের ১২ বছরে ঠিক কী চলছিল, তা তরুণ প্রজন্মকে জানাতে হবে। তা হলেই তাঁরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।’ এ দিকে রমেশের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের অপমান করে তাঁদের দাবি থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। কংগ্রেসের দাবি, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের ‘পাংচারওলা’ বা অন্য কোনও পরিচয়ে কটাক্ষ করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

    তবে এ বারই প্রথম নয়। আগেও একাধিক বার বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুরির বিরুদ্ধে। কৃষক আন্দোলনের সময়ে কংগ্রেসকে ‘শকুনি মামা’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন তিনি। রমেশ বলেছিলেন, ‘ওরা আসলে কৃষক নয়। তিনটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর থেকে পাওয়া অর্থের বিনিময়েই প্রতিবাদ করছেন। আর শকুনি মামার মতো ইন্ধন দিচ্ছে কংগ্রেস।’ শুধু তাই নয়, ২০২৩-এ লোকসভায় বহুজন সমাজ পার্টির (বিএসপি) সাংসদ দানিশ আলির বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে তাঁকে শোকজ়ও করেছিল বিজেপি।

    তিনি দাবি করেছেন, যন্তর মন্তরের নিট আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদের চেয়ে ‘পাংচারওলা’ বেশি ছিল। এছাড়া যারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কটূক্তি করেছে, তারা প্রকৃত ছাত্রছাত্রী নয় বলেও মন্তব্য করেন।

    নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে হওয়া ছাত্র আন্দোলন এবং যন্তর মন্তরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করেই এই মন্তব্য করেছেন বিজেপি সাংসদ।

    রমেশ বিধুরির দাবি, নিট ইস্যুকে সামনে রেখে কিছু সমাজবিরোধী তরুণদের বিভ্রান্ত করেছে এবং তাদের ব্যবহার করে দেশে অশান্তি তৈরির চেষ্টা হয়েছে।

    কংগ্রেসের অভিযোগ, আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের অপমান করে তাঁদের মূল দাবিগুলি থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। এই ধরনের মন্তব্যকে তারা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেছে।

    হ্যাঁ। কৃষক আন্দোলনের সময় কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। এছাড়া ২০২৩ সালে লোকসভায় বিএসপি সাংসদ দানিশ আলিকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে শোকজ় করা হয়েছিল।

    প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়। দিল্লির যন্তর মন্তরেও বিক্ষোভ হয়। আন্দোলনের জেরে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। যদিও পরে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়, বিষয়টি এখনও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)