সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে বর্ধমান সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের এক আধিকারিককে গ্রেপ্তার করল বর্ধমান থানার পুলিশ। ধৃতের নাম অমিত রজক। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকা নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ব্যাঙ্কের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে শনিবার রাতে হুগলির হিন্দমোটর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, অমিত রজক বর্ধমান সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ও ক্রেডিট মনিটরিং সেলের দায়িত্ব সামলাতেন। ঘটনার সময়ে ব্যাঙ্কের প্রধান শাখায় কর্মরত থাকলেও পরে তাঁকে সেহারাবাজার শাখার ইনচার্জ করে পাঠানো হয়ে।
ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২১ থেকে ২০২৬-এর মধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্টে ধারাবাহিক ভাবে সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। অভিযোগ, ব্যাঙ্কের বিভিন্ন কর্মীর অ্যাকাউন্টে মাঝে মধ্যেই ৫০ হাজার টাকার কম জমা পড়ত। পরে অমিত সেই অর্থ ধাপে ধাপে নিজের অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিতেন। তদন্তকারীদের অনুমান, প্যান নম্বর সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এড়াতেই ৫০ হাজারের নিচে টাকা জমা করা হতো।
অভ্যন্তরীণ তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ২০২১-এর ১৭ ফেব্রুয়ারি অমিত এবং এক মহিলার অ্যাকাউন্টে মোট ১ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা জমা পড়ে। ওই বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি আরও ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং ২৪ ফেব্রুয়ারি ১ লক্ষ টাকা জমা হয়। এভাবেই বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৩ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে বলে অভিযোগ।
১৩টি পৃথক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তিনি মোট ৮৩ লক্ষ টাকার ঋণ নিয়েছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে। তার মধ্যে ৮২ লক্ষ টাকা পরিশোধও করেন। এই লেনদেনের ধরন নিয়েও তদন্তকারীদের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এই সমস্ত তথ্য সামনে আসার পরে বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
এর মধ্যে গ্রেপ্তার এড়াতে কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন অমিত। তবে সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এর পরই শনিবার রাতে হিন্দমোটর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে করা হয়। ধৃতের মোবাইল ফোন, প্যান কার্ড এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নথি ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখে অর্থের উৎস, লেনদেনের প্রকৃতি এবং এই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি এই লেনদেনের সঙ্গে নোটবন্দির সময়কার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, তিনি একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকা নিজের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছিলেন।
তিনি বর্ধমান সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) ছিলেন। রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ও ক্রেডিট মনিটরিং সেলের দায়িত্বে ছিলেন এবং পরে সেহারাবাজার শাখার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তদন্তে অভিযোগ, ব্যাঙ্কের বিভিন্ন কর্মীর অ্যাকাউন্টে ৫০ হাজার টাকার কম অঙ্কে টাকা জমা করা হতো। পরে সেই অর্থ ধাপে ধাপে অমিত রজকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত করা হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, প্যান-সংক্রান্ত রিপোর্টিং এড়াতেই ৫০ হাজার টাকার নিচে ভাগ করে টাকা জমা করা হয়েছিল।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ১৩টি পৃথক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তিনি মোট ৮৩ লক্ষ টাকার ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৮২ লক্ষ টাকা পরিশোধও করা হয়েছে। এই লেনদেন নিয়েও তদন্তকারীদের সন্দেহ রয়েছে।
অমিত রজক গ্রেপ্তার এড়াতে কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর তাঁকে হিন্দমোটর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ধৃতের মোবাইল ফোন, প্যান কার্ড এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এগুলি খতিয়ে দেখে অর্থের উৎস, লেনদেনের প্রকৃতি এবং অন্য কারও যোগসাজশ ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ মানি ট্রেল, টাকার প্রকৃত উৎস, সম্ভাব্য সহযোগীদের ভূমিকা এবং এই সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে নোটবন্দির সময়কার কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।