• ‘মা-বাবাকে ছেড়ে যাওয়া কি ভালো দেখায়?’ দলত্যাগীদের কটাক্ষ করে মমতার পাশে থাকার বার্তা শত্রুঘ্নর
    এই সময় | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • তৃণমূলে (মমতাপন্থী) মুষল পর্ব চলছে। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়ছেন একের পর এক সাংসদ, বিধায়ক। এই নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি সরগরম, তখন তিনি মমতার সঙ্গেই আছেন বলে জানিয়ে দিলেন আসানসোলের সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা। রবিবার দলত্যাগীদের কিছুটা কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, ‘মা-বাবাকে ছেড়ে যাওয়া কি ভালো দেখায়?’ তাঁকেও দল ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছেন শত্রুঘ্ন।

    ৪ মে ফলপ্রকাশের পরেই ভাঙন শুরু হয়েছিল তৃণমূলে। এখনও পর্যন্ত ২০ জন তৃণমূল সাংসদ NCPI-তে যোগ দিয়েছেন। বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন দলের প্রায় ৫৯ জন বিধায়কও। মমতার হাত ছেড়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন তাঁরা। কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়েই এই দলত্যাগ বলে মনে করেন শত্রুঘ্ন। তিনি সরাসরি বলে দেন, ‘হয়তো ইডি-সিবিআইয়ের ভয়ে চলে গিয়েছেন।’ তবে তাঁর প্রশ্ন, ‘সন্তান যদি নিজের বাবা-মাকে ছেড়ে চলে যায়, তা কি ভালো দেখায়?’

    তৃণমূল সাংসদরা যখন NCPI-তে যোগ দেওয়ার তোড়জোড় করছেন, সেই সময়ে ১৯ জনের একটি তালিকা সামনে এসেছিল। কানাঘুষোয় শোনা যায়, তাতে নাকি নাম ছিল শত্রুঘ্নরও। তবে শেষ পর্যন্ত দলবদল করেননি তিনি। বরং সেই সময়ে জানিয়েছিলেন, তাঁর কঠিন সময়ে নেত্রী মমতা পাশে ছিলেন। এখন মমতার কঠিন সময়ে তিনি তৃণমূল ছেড়ে যাবেন না। তবে গত ৩০ জুলাই সংসদের ক্যান্টিনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে এক টেবিলে তাঁকে খেতে দেখার পরে নতুন করে দলবদলের জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ দিনও আসানসোলের সাংসদ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, ‘যেখানে আছি, সেখানেই ঠিক আছি।’

    সেই সময়ে তাঁকেও অনেকেই দলবদলের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলেও এ দিন জানিয়েছেন শত্রুঘ্ন। তিনি বলেন, ‘অনেকেই আমাকে তৃণমূল ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিল। তারা হয়তো আমার ভালোর জন্যই বলেছিল। কিন্তু আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছি।’ তাঁর সাফ কথা, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে চলে যাওয়া ঠিক নয়।’ দলবদলের রাজনীতির মাঝে শত্রুঘ্নর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।

    উল্লেখ্য, বিজেপির হাত ধরেই রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন শত্রুঘ্ন। কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীও হয়েছিলেন। কিন্তু আদর্শগত কারণের কথা জানিয়ে মোদী জমানাতেই বিজেপি ছাড়েন তিনি। পরে ২০১৯-এর লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের টিকিটে পাটনা সাহিবের প্রার্থী হন। কিন্তু জিততে পারেননি। ২০২২-এ তৃণমূলে যোগ দেন শত্রুঘ্ন। তার পরেই আসানসোল লোকসভা আসনে উপনির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করেন মমতা। শত্রুঘ্ন জেতেনও। তার পরে ফের ২০২৪-এ আসানসোল থেকে জিতে লোকসভায় যান তিনি।

    তিনি বলেন, অনেকেই হয়তো ইডি বা সিবিআইয়ের ভয়ে দল ছেড়েছেন। পাশাপাশি প্রশ্ন তোলেন, ‘সন্তান যদি বাবা-মাকে ছেড়ে চলে যায়, তা কি ভালো লাগে?’

    না। বরং স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘যেখানে আছি, সেখানেই ঠিক আছি।’ তিনি তৃণমূলেই থাকছেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

    হ্যাঁ। শত্রুঘ্ন জানান, অনেকেই তাঁকে তৃণমূল ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে তিনি সেই পরামর্শ মানেননি।

    তাঁর দাবি, কঠিন সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পাশে ছিলেন। তাই এখন নেত্রীর কঠিন সময়ে তাঁকে ছেড়ে যাওয়া ঠিক হবে না।

    সম্প্রতি সংসদের ক্যান্টিনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাওয়ার ছবি সামনে আসার পর তাঁর দলবদল নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। যদিও তিনি তা উড়িয়ে দিয়েছেন।

    তিনি বিজেপি থেকে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলেন। পরে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০২২ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়ে আসানসোল লোকসভা উপনির্বাচনে জয়ী হন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও আসানসোল থেকে জিতে সাংসদ হন।

  • Link to this news (এই সময়)