• দশ বছর বন্ধ লাইট অ্যান্ড সাউন্ড ফেরানোর দাবি গৌড়-আদিনায়
    এই সময় | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, মালদা: শব্দ ও ধ্বনিতে মূর্ত হতো ইতিহাস। পর্যটকরা এই ইতিহাসকে চাক্ষুষ করতে আসতেন সন্ধ্যার গৌড়-আদিনায়। এখন সে সব অতীত। লাইট-সাউন্ডের সেই উপস্থাপনাই এখন চলে গিয়েছে অতীতের পাতায়। এক দশক বন্ধ থাকার পরে ফের তা চালুর দাবি উঠেছে।

    মালদার ঐতিহাসিক গৌড় ও আদিনার প্রাচীন সৌধে এক সময়ে পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ ছিল এই লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো। সূর্যাস্তের পরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে আলো-শব্দের মাধ্যমে তুলে ধরা হতো ইতিহাস। ২০-২৫ মিনিটের তিনটি শো নিখরচায় দেখতেন পর্যটকরা। গৌড় ও আদিনার ইতিহাস, স্থাপত্য এবং ধ্বংসের কাহিনিতে ডুবে যেতেন তাঁরা। কিন্তু, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেই শো বন্ধ। অভিযোগ, অধিকাংশ লাইট ও সাউন্ডের সরঞ্জাম চুরি হয়ে গিয়েছে। আর যা রয়েছে তারও বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। নতুন সরকার পর্যটনের স্বার্থে ফের এই ব্যবস্থা চালু করুক, সেই দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।

    প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩-য় পর্যটনমন্ত্রী হওয়ার পরে ইংরেজবাজারের প্রাক্তন বিধায়ক কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী এর পরিকল্পনা করেন। তাঁর উদ্যোগে ২০১৩-১৪-য় লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে গৌড় ও আদিনার ঐতিহাসিক সৌধে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড সিস্টেম বসানো হয়। দিনের তুলনায় সন্ধ্যার পরে পর্যটকদের আনাগোনা কম থাকে। সেই সময়ে ভ্রমণপিপাসু, ইতিহাস নিয়ে আগ্রহী মানুষকে টেনে আনতে এই পরিকল্পনা করে পর্যটন দপ্তর।

    ইংরেজবাজার ব্লকের মহদিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার গৌড়ের বারদুয়ারি, চামচিকা মসজিদ, ফিরোজ মিনার-সহ একাধিক ঐতিহাসিক সৌধ এবং গাজোল ব্লকের পাণ্ডুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আদিনা মসজিদ চত্বরে এই শো চালু ছিল। ২০১৫-য় কৃষ্ণেন্দুনারায়ণের দপ্তর বদলের পর ধীরে ধীরে এই রক্ষণাবেক্ষণ থমকে যায়। এক সময়ে বন্ধই হয়ে যায় শো। শুরুতে সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণের কর্মী, পুলিশি নিরাপত্তারও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পরে সেটাও বন্ধ হয়ে যায়।

    স্থানীয় বাসিন্দা বিমল ঘোষ ও দিলবার শেখ বলেন, 'সন্ধ্যা নামলেই মহদিপুর ও পাণ্ডুয়া এলাকা এখন অন্ধকারে ঢেকে যায়। এক সময়ে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শো দেখতে বহু মানুষ আসতেন। ক্যান্টিন ও রেস্তোরাঁও গড়ে উঠেছিল। এখন সব কার্যত ধ্বংসের মুখে। নতুন সরকার আবার এই ব্যবস্থা চালু করলে পর্যটক বাড়বে, কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।'

    প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ বলেন, 'পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতেই এই প্রকল্প চালু করেছিলাম। সেই সময়ে পরিকাঠামোর যথেষ্ট উন্নয়ন করা হয়েছিল। পরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে।' নয়া রাজ্য সরকার এ দিকে নজর দেবে বলে আশা স্থানীয়দের। উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর আশ্বাস, 'আগে কী ব্যবস্থা ছিল, তা খোঁজ নিয়ে দেখব। গৌড় ও আদিনার প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে কেন্দ্রীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ ও মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি জানাব।'

  • Link to this news (এই সময়)