এই সময়, ময়নাগুড়ি: গত বছরের পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তার জন্য ব্যবস্থা নিল রেল। জল্পেশে আসা পূণ্যার্থীদের জন্য তিস্তা ব্রিজে তিনটি ট্রেনের অস্থায়ী স্টপ দেওয়া হলো। তিস্তা তোর্ষা এক্সপ্রেস, কামরুপ এক্সপ্রেস এবং এনজেপি-বামনহাট ডিএমইউ ট্রেনটি প্রতি রবিবার তিস্তা ব্রিজে থামবে। গত বছর তিস্তা ব্রিজে চেন টেনে ভক্তরা নেমে যেতেন। তা আটকাতে ব্রিজে আরপিএফ মোতায়েন করা হয়। তাই এবার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ট্রেনের স্টপ দেওয়া হলো।
জল্পেশে আসা পূণ্যার্থীরা তিস্তা থেকে জল নিয়ে জল্পেশে পূজো দিতে যান। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুণ্যার্থীরা শ্রাবণ মাসে জল্পেশে আসেন। এমনকী, পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসম থেকেও প্রচুর পূণ্যার্থী ফি বছর এখানে জল ঢালতে আসেন। এর মধ্যে বহু মানুষ ট্রেনে চেপে আসেন। কিন্তু তিস্তা ঘাটে জল নেওয়ার জন্য তাঁদের নিউ ময়নাগুড়ি স্টেশন অথবা জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে নামতে হয়। যার ফলে পূণ্যার্থীদের প্রায় ২০ কিমি পথ বাড়তি অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু তিস্তা ব্রিজে নামলে তাঁদের জল্পেশ মন্দির খুব কাছে পড়ে।
গত বছর প্রচুর পূণ্যার্থী তিস্তা ব্রিজে চেন টেনে ট্রেন থামিয়ে নেমে পড়তেন। পরে রেল কড়াকড়ি করায় বহু পূণ্যার্থীকে জরিমানা দিতে হয়েছিল। ট্রেনে বাড়তি রেল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল, যাতে কেউ চেন টেনে ট্রেন না থামান। কিন্তু এ বছর চিত্র উল্টো। জল্পেশে আসা পূণ্যার্থীদের জন্য শ্রাবণ মাসের প্রতি রবিবার তিনটি ট্রেনের অস্থায়ী স্টপেজ দেওয়া হয়েছে তিস্তা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়। এর আগে তিস্তা ঘাটের দায়িত্বে থাকা এলাকার মানুষজন বিষয়টি নিয়ে ময়নাগুড়ির বিধায়কের কাছে দরবার করেন।
পূণ্যার্থীদের অসুবিধার বিষয়টি তুলে ধরেন। বিষয়টি জেনে ময়নাগুড়ির বিধায়ক ডালিম রায় আলিপুরদুয়ারের ডিআরএম দেবেন্দ্র সিংকে অনুরোধ করেন যে, শ্রাবণ মাসের রবিবারগুলিতে তিস্তা ব্রিজে যাতে ট্রেনের স্টপ দেওয়া হয়। সেই অনুরোধের পরেই রেল কর্তৃপক্ষ এই তিনটি ট্রেনের অস্থায়ী স্টপেজ দেয়। তিস্তা ব্রিজে ট্রেনগুলির স্টপ দেওয়াতে খুশি পূণ্যার্থীরা।
কোচবিহার থেকে আসা দুই পূণ্যার্থী বিক্রম মজুমদার, সুজয় চক্রবর্তী বলেন, 'আমরা প্রতি বছর জল্লেশে জল ঢালতে আসি। কিন্তু এতদিন আমাদের নিউ ময়নাগুড়ি স্টেশনে নামতে হতো। সেখান থেকে টোটো নিয়ে বা গাড়িতে তিস্তায় আসতে হতো। তাতে সময় এবং টাকা দুটোই বেশি লাগত। এবছর তিস্তা ব্রিজে ট্রেনের স্টপেজ দেওয়াতে সবারই বেশ সুবিধা হয়েছে।' একই সুরে অসমের কোঁকড়াঝাড় থেকে আসা সুমিত দত্ত, নির্মলা দত্ত বলেন, 'নিউ ময়নাগুড়ি স্টেশনে নেমে অনেকটা পথ হটিতে হতো। এবার সেই হ্যাপা নেই।'