এই সময়, কোচবিহার: বিনা পয়সায় মহিলা যাত্রীদের পরিষেবা দিতে গিয়ে এ বার ভাঁড়ারে টান পড়ল উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের (এনবিএসটিসি)। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, রাজ্য থেকে ভর্তুকি না এলে এ বার ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙতে হবে এনবিএসটিসির। ইতিমধ্যেই হাতে থাকা টাকা ভেঙে কোনওরকমে পরিষেবা চালু রাখা হয়েছে। আপাতত পাঁচ কোটি টাকা ঘাটতি রয়েছে নিগমের।
গোটা রাজ্যের সঙ্গে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমেও ১ জুন থেকে শুরু হয়েছে বিনা পয়সায় মহিলা যাত্রীদের যাতায়াত। জুন ও জুলাইয়ে ১৭ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার টিকিট কাটা হয়েছে মহিলা যাত্রীদের জন্য। যদিও তাঁদের শূন্য পয়সার টিকিট দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পরিবহণ দপ্তর থেকে এখনও পর্যন্ত ভর্তুকি বাবদ মিলেছে ১২ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ সবমিলিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ঘাটতি নিয়ে অগস্টে পরিষেবা শুরু করেছে নিগম। এই পাঁচ কোটির বোঝা বইতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিগম কর্তাদের।
নিগম সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ডিভিশনগুলোর হাতে থাকা জমানো টাকা খরচ হয়েছে। দৈনিক টিকিট বিক্রির টাকা তেল ভরতেই চলে যাচ্ছে। কোষাগারে কোনও অর্থ জমা পড়ছে না। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের এক আধিকারিক বলেন, 'প্রায় এক মাস আগে থেকে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মহিলা যাত্রীদের পরিষেবা দিতে ভর্তুকি বাবদ ২০ কোটি টাকা চেয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও বরাদ্দ আসেনি। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, এ বার হয়তো ফিক্সড ডিপোজিটগুলো ভেঙে পরিষেবা চালাতে হবে।'
এনবিএসটিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, মহিলা যাত্রীদের বিনা পয়সায় পরিষেবা চালু হওয়ার আগে মাসে টিকিট বিক্রি এবং অন্যান্য আয় থেকে ১৫ কোটি টাকা আসত। তার মধ্যে প্রতি মাসে ১৪ কোটি টাকা খরচ হতো। অন্তত এক কোটি টাকা জমা হতো। কিন্তু বর্তমানে বিনা পয়সায় পরিষেবার জন্য প্রতি মাসে টিকিট বিক্রি সাত থেকে সাড়ে সাত কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এর ফলেই যাবতীয় সমস্যা শুরু হয়েছে।'