এই সময়, শিলিগুড়ি: ফের খোলা হবে শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-র (এসজেডিএ) দুর্নীতির ফাইল। ওই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত বোর্ড মেম্বার এবং আধিকারিকদের বিরুদ্ধে রবিবার ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের অর্থ ও পরিবহণ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন।
এ দিন শিলিগুড়ি পুরসভায় প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি একাধিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। প্রশাসনিক বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সাংসদ-বিধায়কদের বড় অংশ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন আধিকারিকরাও। বৈঠকে যোগ দিতে এসে আনন্দময় বলেন, 'এসজেডিএতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছিল। ওই এলাকা শিলিগুড়ি মহকুমা এবং আমার বিধানসভা মাটিগাড়া নকশালবাড়ি জুড়ে রয়েছে। পুরমন্ত্রীকে বলেছি, পুনরায় যাতে ওই ঘটনার তদন্ত শুরু হয় এবং যাঁরা দোষী তাঁদের যেন শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।'
তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ২০১২-১৩-তে এসজেডিএতে ব্যাপক আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। জোড়াপানি নদী সংস্কারের নামে এক কোদাল মাটি না ওঠালেও ১৫ কোটি টাকা বিল মিটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। ময়নাগুড়ি, বাগডোগরা-সহ তিন জায়গায় শ্মশানে বৈদ্যুতিক চুল্লি বসানোর নামে ১৫ কোটি টাকার দুর্নীতি সামনে আসে।
যদিও ওই তিনটি শ্মশানে আজও ওই বৈদ্যুতিক চুল্লি বসানো হয়নি। একই ভাবে বিভিন্ন খাতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা খরচের হিসেব দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক আন্দোলন হয়। তার জেরে তৎকালীন শিলিগুড়ির বিধায়ক রুদ্রনাথ ভট্টাচার্যকে এসজেডিএ চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেয় রাজ্য সরকার। চেয়ারম্যান করা হয় তৎকালীন ফুলবাড়ির বিধায়ক তৃণমূলের গৌতম দেবকে।
এসজেডিএ-র তৎকালীন সিইও গোদালা কিরণকুমারকে বদলি করে মালদার জেলাশাসক করে দেওয়ায় বিতর্ক তৈরি হয়। সেই ঘটনার তদন্ত নেমে তৎকালীন শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার কালিয়াপ্পান জয়রামন গোদালাকে গ্রেপ্তার করেন। এর পরে জয়রামনকে প্রায় চার বছর কম্পালসারি ওয়েটিংয়ে পাঠানো হয়। পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সমস্ত দুর্নীতির তদন্ত হবে। অপরাধীরা কেউই ছাড়া পাবে না।'