এই সময়: মাত্র মাসখানেকেরও কম সময় আগে অল্পের জন্য কম্যান্ডোদের গুলি থেকে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল সে। সেই ধাক্কা সামলে, পরপর দু’টি হত্যাকাণ্ডে উঠে এলো লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গি লতিফ ভাটের নাম। যার সন্ধানে গোটা কাশ্মীর উপত্যকায় চলছে চিরুনি তল্লাশি।
গত ৩ জুলাই শোপিয়ানের আপেল বাগানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে লস্করের অন্যতম শীর্ষ কম্যান্ডার জ়াকির আহমেদ গানাই এবং লতিফ ভাটের ছবি ধরা পড়ে। ৮ জুলাই প্যারা ফোর্স, রাষ্ট্রীয় রাইফেলস, সিআরপিএফ এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথবাহিনীর অপারেশনে শোপিয়ানে নিহত হয় গানাই। কোনওক্রমে পালিয়ে বাঁচে লতিফ। এর পরে ২২ জুলাই অনন্তনাগে অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তায় মোতায়েন পুলিশকর্মী আশিক হুসেনের হত্যায় সেই লতিফই মূল মাথা ছিল বলে অনুমান গোয়েন্দাদের।
তার সপ্তাহখানেকের মধ্যে কুলগামে দুই শ্রমিকের হত্যার ঘটনায় ফের উঠে এসেছে লতিফের নাম। গোয়েন্দাদের অনুমান, হামলার পরিকল্পনা সম্ভবত আগেই করা হয়েছিল। কারণ, শোপিয়ান থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে পালানোর পরেও লতিফ যে দক্ষিণ কাশ্মীর ছাড়েনি, তা মোটামুটি পরিষ্কার। সে হামলা চালিয়েছে অনন্তনাগ এবং কুলগামে, শোপিয়ান থেকে যার দূরত্ব যথাক্রমে ১৮ এবং ২৫ কিলোমিটারের মতো।
সূত্রের খবর, তদন্তে জানা গিয়েছে যে, দুই পরিযায়ী শ্রমিক দীপক রাত্রে (২৪) ও ভূপেন্দ্র ভাইনাকে (২৮) পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করেছে লতিফই। সে একা গিয়েছিল এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে। তার সঙ্গী অপেক্ষা করছিল কিছুটা দূরে। সূত্রের দাবি, দু’জনকে খুন করার আগে মিনিট ২০-র কিছু বেশি সময় ধরে তাঁদের সঙ্গে গল্প করে সে। আগেভাগে রেকি করে জঙ্গিরা জেনে নিয়েছিল, ওই ইটভাটায় হিন্দু শ্রমিক ছিলেন ওই দু’জনই। তা হলে গল্প করার কারণ কী?
তদন্তকারীদের বক্তব্য, রেকি করে জোগাড় করা নাম, পরিচয় নিশ্চিত করতেই এই খোশগল্পের ছক। তা ছাড়া, কোনও ভাবে যাতে টের পেয়ে দুই শ্রমিক পালিয়ে যেতে না পারেন, তা-ও সম্ভবত নিশ্চিত করতে চেয়েছিল লতিফ। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, পিঠে একটি বড় মাপের কালো ব্যাগ নিয়ে দুই শ্রমিকের কাছে গিয়েছিল ওই জঙ্গি। তাতে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে একে ৪৭ রাইফেল লুকোনো ছিল বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, দীপক ও ভূপেন্দ্র প্রথমে লতিফকে দেখে ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু লতিফ তাঁদের আশ্বস্ত করে বলে, সে কারও কোনও ক্ষতি করতে আসেনি। প্রথমে ভালো করে দীপক ও ভূপেন্দ্রর নাম, পরিচয় জেনে নেয় সে। কথায় কথায় দু’জনের আস্থাও অর্জন করে।
এ ভাবে মিনিট ২০-র কিছু বেশি গল্প করার পরে জল খেতে চায় লতিফ। গল্প করার সময়ে দীপক এবং ভূপেন্দ্র স্ত্রীদের মধ্যে অন্তত এক জন তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, এই সময়ে জল খেতে চায় লতিফ। দীপক বা ভূপেন্দ্র স্ত্রীদের মধ্যে যিনি ছিলেন, তিনি জল আনতে ভিতরে যেতেই ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায় লতিফ। তার এক সঙ্গী কিছুটা দূরে মোটরবাইকে অপেক্ষা করছিল বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা। গুলি করার পরে সেই বাইকে করে উধাও হয়ে যায় জঙ্গিরা।
লতিফ যখন গুলি চালাচ্ছে, তখন সেখানে দেড় থেকে দু’বছরের একটি একরত্তি শিশু ছিল বলেও স্থানীয়দের অনেকে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। যদিও সেই শিশুটি অক্ষত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।