ভোররাতে প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। কোথায় ঘটেছে এই ঘটনা? সোমবার ভোর ৩টে ২৫ মিনিটে বিহারের সহর্সা জেলার সিমরি বখতিয়ারপুর স্টেশনে। জানা গিয়েছে, সমস্তিপুর-সহর্সা প্যাসেঞ্জার ট্রেন ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢুকে দাঁড়িয়েছিল। ট্রেনে অনেক যাত্রী ছিলেন। আচমকাই ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। নিমেষে দাউ দাউ করে ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। দ্রুত সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পিছনের কয়েকটি বগিতে। যদিও, ট্রেনের মধ্যে থাকা যাত্রীরা দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গিয়েছে। তবে আগুনে ট্রেনের তিনটি বগি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কী ঘটেছিল?
রবিবার রাত ৩টে ২৫ মিনিটে সিমরি বখতিয়ারপুর স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢোকে ট্রেনটি। সেই সময়েই ট্রেনের মাঝখানের ইঞ্জিনটি থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে আগুন। জানা গিয়েছে, ট্রেনের মধ্যে থাকা যাত্রীদের বেশিরভাগই ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন লাগতেই ট্রেনের কর্মীরা ছুটে এসে যাত্রীদের বাইরে বের করে নিয়ে আসেন।
রেল সূত্রে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ এবং দমকল। প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন দমকল কর্মীরা। ঘটনায় বেশ কিছু ট্রেন বাতিল হয়েছে। তবে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পরে সকাল ছ’টা থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কী ভাবে এই আগুন লাগল, তা স্পষ্ট নয়। তবে, প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লেগে থাকতে পারে। ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ এবং রেল। ট্রেনের ইঞ্জিনে কোনও টেকনিক্যাল ফল্ট ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিমরি বখতিয়ারপুরের স্টেশন সুপারইনটেন্ডেন্ট জানিয়েছেন, ঘটনায় রেল পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। সহর্ষ-পাটনা কোশী এক্সপ্রেস, মণিহারি-জয়নগর জানকী এক্সপ্রেস, সহর্সা-সমস্তিপুর প্যাসেঞ্জার এবং সহর্ষ-দেওঘর শ্রাবণী স্পেশাল ট্রেনগুলি কিছুটা দেরিতে চলছে।
এক নজরে
ঘটনার স্থান ও সময়: বিহারের সহর্সা জেলার সিমরি বখতিয়ারপুর স্টেশনে সোমবার ভোর ৩টে ২৫ মিনিটে সমস্তিপুর-সহর্সা প্যাসেঞ্জার ট্রেনে আগুন লাগে।
ক্ষয়ক্ষতি: ট্রেনের মাঝখানের ইঞ্জিন থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হয় এবং পরে তা ছড়িয়ে পড়ে ট্রেনের তিনটি বগি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত করে দেয়।
যাত্রী নিরাপত্তা: যাত্রীদের বেশিরভাগ ঘুমন্ত অবস্থায় থাকলেও রেলকর্মীদের তৎপরতায় সবাইকে নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব হয়। ফলে বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো গিয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণ: খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সম্ভাব্য কারণ: ঠিক কী কারণে আগুন লেগেছে তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার অনুমান করা হচ্ছে। রেল ও পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
রেল পরিষেবা ব্যাহত: এই ঘটনার জেরে বেশ কয়েকটি ট্রেন (যেমন- কোশী এক্সপ্রেস, জানকী এক্সপ্রেস, শ্রাবণী স্পেশাল) দেরিতে চলেছে।
FAQ
কোন স্টেশনে এবং কোন ট্রেনে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে?
বিহারের সিমরি বখতিয়ারপুর স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা সমস্তিপুর-সহর্সা প্যাসেঞ্জার ট্রেনে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
আগুন লাগার কারণে যাত্রীদের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি?
না, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেনের কর্মীরা যাত্রীদের দ্রুত বাইরে বের করে আনেন, যার ফলে যাত্রীদের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
আগুনে ট্রেনের কতটা অংশ পুড়ে গিয়েছে?
ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং এর ফলে পেছনের তিনটি বগি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কত সময় লাগে?
দমকল কর্মীদের প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।
আগুন লাগার মূল কারণ কী বলে মনে করা হচ্ছে?
আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ইঞ্জিনে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না তা নিয়েও তদন্ত চলছে।
এই ঘটনার ফলে ট্রেন চলাচলে কী প্রভাব পড়েছে?
ঘটনার পর কিছু ট্রেন বাতিল হয় এবং সহর্ষ-পাটনা কোশী এক্সপ্রেস, মণিহারি-জয়নগর জানকী এক্সপ্রেস সহ বেশ কয়েকটি ট্রেন দেরিতে চলাচল করে। সকাল ৬টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।