• সাঁতরাগাছি স্টেশনে কোটি টাকার সংস্কার, তবু নরককুণ্ড টয়লেট
    এই সময় | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, হাওড়া: অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় সাঁতরাগাছি রেলওয়ে স্টেশনের আধুনিকীকরণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। নতুন স্টেশন ভবন, এসকেলেটর, লিফট-সহ একাধিক পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে জোরকদমে। কিন্তু সেই স্টেশনেই যাত্রীদের অন্যতম মৌলিক পরিষেবা পাবলিক টয়লেটের বেহাল দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিত্যযাত্রী এবং যাত্রী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি এক নিত্যযাত্রী স্টেশন ম্যানেজারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে দাবি করেছেন, স্টেশনের পাবলিক টয়লেট দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প চললেও, যাত্রীদের জন্য পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের ন্যূনতম ব্যবস্থা নেই বলেই অভিযোগ।

    অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, স্টেশনের টয়লেটের মেঝে সর্বত্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে এবং নোংরা জল জমে থাকায় শৌচাগার ব্যবহার করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। শুধু তাই নয়, একাধিক ইউরিনাল ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কোথাও প্লাস্টিক দিয়ে অস্থায়ী ভাবে ঢেকে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও ফ্লাশ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অকেজো। বেসিনের ও দেওয়ালে ময়লা জমে রয়েছে, নীচেও ভাঙা ফ্লাশ ট্যাঙ্ক পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, টয়লেটে সাবানের কোনও ব্যবস্থা নেই। ব্যবহারের অযোগ্য নোংরা কমোড দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকলেও তা সরানো হয়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, টয়লেট পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনও নির্দিষ্ট হাউসকিপিং কর্মী নিয়োগ করা হয়নি বলেও অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।

    দক্ষিণ-পূর্ব রেলের হাওড়া-জকপুর প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অমল ভৌমিক বলেন, 'আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে বার বার রেল কর্তৃপক্ষের কাছে সাঁতরাগাছি স্টেশনের ৮ নম্বর প্লাটফর্মের কাছে স্টেশন বিল্ডিঙের নীচের পাবলিক টয়লেট পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।'

    তিনি আরও বলেন, 'এখন সাধারণ যাত্রীরাও লিখিত অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু তাতেও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে টয়লেট নোংরা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দুর্গন্ধে শুধু শৌচাগর ব্যবহারকারীরাই নন, প্ল্যাটফর্মে থাকা অন্য যাত্রীরাও সমস্যায় পড়ছেন। প্রতি দিন লক্ষাধিক যাত্রী এই স্টেশন ব্যবহার করেন। তাই এই পরিস্থিতি কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।' অভিযোগপত্রে রেল কর্তৃপক্ষের কাছে দু'টি প্রধান দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, অবিলম্বে টয়লেট সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে সমস্ত ভাঙা স্যানিটারি সরঞ্জাম মেরামত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, ২৪ ঘণ্টার জন্য নির্দিষ্ট হাউসকিপিং কর্মী নিয়োগ করে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

    যাত্রীদের বক্তব্য, সাঁতরাগাছি দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন। প্রতি দিন লক্ষাধিক মানুষ এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। অথচ, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে টয়লেটের এই দুরবস্থা রেলের পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। অভিযোগকারী নিত্যযাত্রী অনুপ মাইতি জানান, তিনি বাগনান থেকে নিয়মিত যাতায়াত করেন পার্ক স্ট্রিটের অফিসে। দিন ১৫ ধরে প্রচণ্ড খারাপ অবস্থা দেখে তিনি কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, তিনি একদিন আগে পর্যন্ত ওই একই অবস্থায় দেখে এসেছেন। তিনি চান, যাত্রীদের স্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এ বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টয়লেটের পরিচ্ছন্নতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের সমস্যা দ্রুত কী ভাবে সমাধান করা যায়, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • Link to this news (এই সময়)