• শিক্ষকের অভাবে বন্ধ হয়ে গেল ৮টি জুনিয়র হাইস্কুল
    এই সময় | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • দিব্যেন্দু সরকার, আরামবাগ

    তৃণমূল আমলে শিক্ষক নিয়োগে ভাটা। দীর্ঘদিন হয়নি এসএসসি পরীক্ষা কিংবা প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষাও। শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক অব্যবস্থা এবং শিক্ষক সঙ্কটের জেরে অবশেষে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেল আরামবাগ মহকুমার ৮টি জুনিয়র হাইস্কুল। ফলে, গ্রামে স্কুলের ভবন থাকলেও, সেখানে আর পড়াশোনা হয় না। অথচ, ছাত্রছাত্রী যথেষ্টই আছে। পরিকাঠামোও ঠিকঠাক। শুধুমাত্র শিক্ষক-শিক্ষিকা না থাকায়, বাধ্য হয়ে সব ক'টি স্কুল বন্ধই হয়ে গেল। স্কুলভবন এখন ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত, গ্রামবাসীদের অন্য কাজে ব্যবহারের এক আস্তানায় পরিণত হয়েছে।

    বাধ্য হয়েই এলাকার ছাত্রছাত্রীদের দূরের স্কুলে পড়তে যেতে হচ্ছে এই বর্ষায়, জলকাদা মাড়িয়ে, প্রবল দুর্ভোগ সহ্য করে। স্কুল শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগের চুনাইট জুনিয়র হাইস্কুল, নারায়ণপুর জুনিয়র হাইস্কুল, গোঘাটের পাণ্ডুগ্রাম বেনেপুকুর শিবতলা জুনিয়র হাইস্কুল, খানাকুলের শশাপোতা হরিজন নিম্ন বুনিয়াদ বিদ্যালয়, বামনখানা বিবেকানন্দ জুনিয়র হাইস্কুল, জগৎপুর জুনিয়র গার্লস হাইস্কুল, রাংতাখালি জুনিয়র হাইস্কুল, মাদারিচক জুনিয়র হাইস্কুল- মহকুমার এই মোট আটটি জুনিয়র হাইস্কুলে এই মুহূর্তে পড়ুয়া সংখ্যা শূন্যয় নেমে আসায়, স্কুলের গেটে তালা পড়েছে।

    আরও বেশ কিছু স্কুলও ধুঁকছে। এলাকার মানুষের অভিযোগ, বিগত সরকারের ব্যর্থতায় স্কুলগুলির এই হাল। গ্রামে স্কুল থাকতেও ছেলেমেয়েদের দূরের স্কুলে পাঠাতে হচ্ছে। গ্রামের স্কুল চালু থাকলে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা দূর হতো। এ দিকে, নতুন সরকার ফের শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করায় উদ্যোগী হয়েছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, দ্রুত পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ হলে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এই স্কুলগুলি আবার চালু হবে এবং গ্রামের পড়ুয়ারা নিজেদের এলাকাতেই শিক্ষার সুযোগ ফিরে পাবে।

    গোঘাটের পাণ্ডুগ্রামের বাসিন্দা সুজয় রায়ের বক্তব্য, 'গ্রামে স্কুলের বিল্ডিং আছে। ছাত্রছাত্রীরাও আছে। কিন্তু শিক্ষক-শিক্ষিকা নেই। এতেই চরম সমস্যায় পড়েছে বহু ছাত্রছাত্রী। বার বার বলা সত্ত্বেও শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাবে স্কুল বন্ধই হয়ে গিয়েছে।' অন্য দিকে, খানাকুলের জগৎপুরের বাসিন্দা বাঁশরিমোহন সুরের আক্ষেপ, 'তৃণমূলের আমলে ধীরে ধীরে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। যাও বা দু'একজন শিক্ষক ছিলেন, তাঁরাও অন্যত্র চলে যান। শিক্ষা ক্ষেত্রে তৃণমূল কোনও ব্যবস্থাও নেয়নি। ফলে, এ রকম বহু স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।' খানাকুলের বাসিন্দা বৈদ্যনাথ রায় বলেন, 'দুঃখের বিষয় যে, স্কুলভবন আছে, ছাত্রছাত্রী আছে, কিন্তু পড়ানোর শিক্ষক নেই। গ্রাম থেকে অনেকটাই দূরের স্কুলে যেতে হচ্ছে এখন। বন্যাকবলিত এলাকার ছাত্রছাত্রীরা বর্ষার সময়ে স্কুলে হাজিরা দিতেই পারে না। এর জন্য তো তৃণমূল সরকারই দায়ী।'

    এই ব্যাপারে আরামবাগের বর্তমান বিধায়ক হেমন্ত বাগ বলেন, 'তৃণমূল কোটি কোটি টাকা লুটেছে। শিক্ষক নিয়োগ তো দূরের কথা, কাটমানি খেতেই তাঁরা ব্যস্ত ছিলেন। শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগে কী ভাবে স্ক্যাম ধরা পড়েছে! ধিক্কার জানালেও কম হবে! আমরা দেখছি, কী ভাবে এর সমাধান করা যায়।'

  • Link to this news (এই সময়)