মহম্মদ মহসিন, বাগনান
এপার ভাঙে ওপার গড়ে এই তো নদীর খেলারে-গানের কথার বাস্তব দৃশ্য দেখা গেল বাগনান দু'নম্বর ব্লকের মুগকল্যাণ বেনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। রূপনারায়ণের এক পারে হাওড়া জেলা ও অন্য দিকে পূর্ব মেদিনীপুর। নদীর পাশে কয়েক বছর আগে পর্যন্ত এই চরে অনেক গাছগাছালি ছিল, হরেক পাখির কলরবে মুখর থাকত এই গ্রাম।
বেনাপুরের চর নামে পরিচিত জায়গাটি নদী ও সবুজের সান্নিধ্যে সপ্তাহান্তের ভ্রমণস্থল হিসেবে পর্যটকদের কাছে রীতিমতো আকর্ষণীয়। পিকনিকের মরশুমে তো বটেই, বছরের বাকি সময়েও দু'তিন দিনের ছুটি কাটানোর জন্য এখানে আশ্রয় খোঁজেন নগর-ক্লান্ত মানুষ। তবে গত কয়েকবছর ধরে নদীর পাড় বিপজ্জনক ভাবে ভাঙতে শুরু করেছে। নদীর কোল বেয়ে পাড়ে আছড়ে পড়ে ঢেউ, আর তখনই তিলতিল ভাঙন শুরু হয় বেনাপুরের চরে।
এই ভাঙনে অশনি সঙ্কেত পাচ্ছেন গ্রামের মানুষ। কারণ, দেখা গিয়েছে, গত কয়েক বছর আগেও এই চরে থাকা বহু গাছ নদীর গর্ভে চলে গিয়েছে। এমনকী, নদীর পাড় এমন বিপজ্জনক ভাবে ভাঙছে, নদীর আশপাশে চরের বাসিন্দাদেরই যাতায়াত করতে হয় অতি সন্তর্পণে। একই ভাবে নদীর গর্ভে চলে যাচ্ছে বাঁধের পার্শ্ববর্তী প্রাণবল্লভপুর, চন্দনাপাড়া কিশোরপুর, সোওয়াদিঘি-সহ একাধিক গ্রাম। নদীর অন্য পারে দেনান, কোলাঘাট-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার দিকে চর জেগে উঠেছে।
প্রাণবল্লভপুর এলাকার বাসিন্দা অবোধ সামন্ত বলেন, 'প্রায় দু'যুগ আগে রূপনারায়ণের পাশে বিশাল এলাকাজুড়ে এক চর উঠেছিল। সেই বিশাল চরে বড় বড় বাবলা, অশ্বত্থ-সহ একাধিক গাছও হয়েছিল।' গ্রামবাসী শ্যামসুন্দর সামন্ত, সৌমিত্র সামন্তরা জানান, এত বড় চর উঠেছিল যে, ছেলের দল ফুটবল নিয়ে খেলাধুলো করত। তবে এখন যে ভাবে চর নদীর গর্ভে চলে যাচ্ছে, তাতে পিকনিক পার্টি আসার সংখ্যা অনেক কম। তাঁরা বলেন, 'ওই বিশাল চর বছর কয়েক আগে থেকেই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। গ্রামের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আমাদের দাবি, অবিলম্বে এই চর বাঁধা হোক।'
এলাকার বাসিন্দা ও বিজেপির রাজ্যস্তরের নেতা অনুপম মল্লিক বলেন, 'এই ভাঙন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাকৃতিক নিয়মে নদীর এক পাড় ভাঙে, অন্য পাড় গড়ে। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের দিকে রূপনারায়ণের পাড় গড়ছে, অন্য দিকে, হাওড়া জেলার বেনাপুর এলাকার দিকে ভাঙছে। বিপজ্জনক এই ভাঙনের ফলে কয়েকমাস আগে পাড়ের পাশে যাতায়াতকারীদের মধ্যে একজনের মৃত্যুও হয়েছে।' তিনি জানান, ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। অনুপম বলেন, 'যত দিন না পর্যন্ত এই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তত দিন ভাঙন-প্রবণ এলাকা ঘিরে রাখার জন্য সেচ দপ্তরের কাছে অনুরোধ করেছি।'