অর্পিতা হাজরা
ইনস্টাগ্রামে পোস্ট হওয়া কয়েক সেকেন্ডের রিলসের সূত্র ধরে পঞ্চসায়র থানার উদ্যোগে পাচার হওয়া থেকে বাঁচল তিন কিশোরী।
ঘটনার সূত্রপাত ২৭ জুলাই। রাত আটটা বাজতে পাঁচ মিনিট বাকি। পঞ্চসায়র থানার শহিদ স্মৃতি কলোনি থেকে তড়িঘড়ি তিন কিশোরীর পরিবার যায় থানায়। জানা যায়, ওই তিন কিশোরী স্কুল থেকে বাড়ি ফেরেনি। তিন জনই একই পাড়ার বান্ধবী। পুলিশের কাছে পরিজন জানান, কিশোরীদের দু'জনের বয়স ১৫। এক জনের ১৬।
পঞ্চসায়র থানার পুলিশ আধিকারিকরা জানতে চান পরিবারের কাছে, কিশোরীদের কাছে কোনও মোবাইল আছে কি না। পরিবার জানায়, এক জনের কাছে আছে। পুলিশ টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করা শুরু করে। হাওড়ার আশপাশে মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন দেখে পুলিশ। তবে নির্দিষ্ট ভাবে জানার জন্য পুলিশের প্রয়োজন আরও কিছু ক্লুয়ের। পুলিশকে নিখোঁজ কিশোরীদের পরিবার জানায়, উত্তরপ্রদেশে তাদের এক কমন ফ্রেন্ড আছে। সে বিয়েবাড়ির অনুষ্ঠানে নাচ করে।
পুলিশ এর পরে জানতে চায় ওই কিশোরীদের কোনও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট আছে কি না? এক কিশোরীর পরিবার পুলিশকে জানায়, ইনস্টাগ্রামে এক কিশোরীর অ্যাকাউন্ট আছে। পুলিশ ইনস্টাগ্রাম চেক করে। ওই কিশোরী ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিল একটি রিলস। পুলিশ সূত্রে খবর, তিন জনের কেউ স্কুলের পোশাকে ছিল না। রিলসে দেখা যায়, স্টেশনে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে। সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চসায়র থানার সাব–ইনস্পেক্টর স্বরাজ দাস, ডিউটি অফিসার এসআই সৌরভ প্রামাণিক, সার্জেন্ট সন্তব্রত চট্টোপাধ্যায় হাওড়া স্টেশনের উদ্দেশে রওনা দেন। কারণ মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ও স্টেশনে দাঁড়ানো ট্রেন েদখে তদন্তকারীদের টিম বুঝে যান, হাওড়া থেকে ওই তিন কিশোরী ট্রেনে চেপে কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে।
পঞ্চসায়র থানা হাওড়া জিআরপি–কে ওই তিন কিশোরীর ছবি ও তথ্য শেয়ার করে। জানা যায়, স্টেশনে থাকা ওই তিন কিশোরীর কাছে কোনও টিকিট ছিল না। তাই তাদের ফাইন করা হয়। উত্তরপ্রদেশের সেই বান্ধবী ইউপিআইয়ে টাকা পাঠিয়ে ফাইন দেয়। এবং উত্তরপ্রদেশের ভাটপার রানি স্টেশনে যাওয়ার টিকিট কেটে দেয়। সেই টিকিটে যখন ওই কিশোরীরা ট্রেনে উঠতে যায়, ততক্ষণে পঞ্চসায়র থানা ও জিআরপি হাওড়াতে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই কিশোরীরা পুলিশকে জানায়, উত্তরপ্রদেশের ওই বান্ধবী তাদের কাজের টোপ দিয়েছিল। ওই বান্ধবী জানিয়েছিল, ওখানে বিয়েবাড়িতে নাচলে ভালো রোজগার হবে। জীবন বদলে যাবে। যাতায়াতের ব্যবস্থাও উত্তরপ্রদেশের ওই বান্ধবী করে দিয়েছে। পুলিশ জানতে চায়, তাদের স্কুলের পোশাক কোথায়? কিশোরীরা জানায়, তারা বাঘাযতীন স্টেশনের কাছে ড্রেস ফেলে দিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ওই তিন কিশোরীকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ। কলকাতা পুলিশের এক কর্তা বলেন, 'প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তিন কিশোরীকে পাচারের ছক করা হয়েছিল। উত্তরপ্রদেশে ওই কিশোরীর খোঁজ করছে পুলিশ।'