আজকাল ওয়েবডেস্ক: জঙ্গী যোগে এ বার রাজ্য থেকে তৃতীয় গ্রেফতারি। এ বার এসটিএফ-এর হাতে তৃতীয় গ্রেফতারি। হামিম, অর্পিতার পর গ্রেপ্তার তাঁর সহযোগী আদিত্য সিং। জঙ্গিদের টার্গেট ছিল পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। উমেশ রাইয়ের ছবি তুলে হামিমকে পাঠায় আদিত্য। হাওড়ার বেলিসিয়াস রোড থেকে বেঙ্গল এসটিএফ-এর হাতে গ্রেফতার আদিত্য ওরফে রাজু। আজ বর্ধমান আদালতে পেশ করা হবে তাঁকে।
জানা গিয়েছে, রবিবার রাতেই আদিত্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসটিএফ-এর গোয়েন্দাদের দাবি, হামিমের সঙ্গে আদিত্যের দীর্ঘ দিনের পরিচয় ছিল এবং হামিমই তাঁকে দলে নিয়োগ করেছিল। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের ছেলেকে অপহরণের ষড়যন্ত্রেও আদিত্য জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, আদিত্যের সঙ্গে হামিমের পূর্ব পরিচিত ছিল। তাঁর দায়িত্ব প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এর খোঁজ খবর রাখা। তাঁর ছবি তুলে হামিদ থেকে পাঠানো। ধৃতকে সোমবারই বর্ধমান আদালতে তোলা হবে।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যোগ এবং পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে গ্রেপ্তার হামিম মণ্ডলকে জেরা করে এবার আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স।
তদন্তের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হামিমের ঘনিষ্ঠ পরিচিত অর্পিতা সরকারকে। শনিবার তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে তদন্তকারীরা।
এসটিএফ সূত্রের দাবি, অর্পিতাকে ব্যবহার করে ‘হানিট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করা হত। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে অপহরণ কিংবা ব্ল্যাকমেলের ফাঁদ পাতা এবং সেখান থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করাই ছিল এই চক্রের অন্যতম কৌশল।
তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি, হামিম মণ্ডলকে জেরা করার সময়ই অর্পিতার নাম সামনে আসে। এরপর প্রযুক্তিগত নজরদারি ও তথ্য যাচাই করে সাহেবগঞ্জে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে অভিযান চালায় এসটিএফ। সেখান থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শুক্রবার পূর্ব বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজিং থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তদন্তকারীদের অভিযোগ, হামিমের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ এবং পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের যোগাযোগের প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। সেই তদন্তেরই ধারাবাহিকতায় অর্পিতার গ্রেপ্তারিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করা হচ্ছে।
গোয়েন্দাদের সন্দেহ, এই চক্রের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য বিদেশি হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া। হামিম ও অর্পিতার যোগাযোগের পরিধি, আর কারা এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত এবং কোনও বৃহত্তর জঙ্গি বা গুপ্তচর চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।