: বাঁকুড়া শহরের বাজার এলাকায় ফল ও সবজির মূল্য, গুণগতমান এবং পরিচ্ছন্নতা খতিয়ে দেখতে যৌথ অভিযান চালাল বাঁকুড়া পৌরসভা, ডিআইবি, উদ্যান পালন দফতর এবং বাঁকুড়া থানার এনফোর্সমেন্ট টিম। শনিবার মাচানতলা, কলেজ মোড় এবং কাটজুড়িডাঙ্গার একাধিক ফল ও সবজির দোকানে গিয়ে প্রশাসনের আধিকারিকেরা সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে পাইকারি ও খুচরো দামের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে বিভিন্ন তথ্য খাতায় নথিভুক্ত করা হয়।
অভিযান চলাকালীন এক ফল বিক্রেতার কাছ থেকে বিভিন্ন ফলের পাইকারি দামের তথ্য সংগ্রহ করেন আধিকারিকেরা। বিক্রেতার দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, কলার পাইকারি দাম ৪৫ ও ৪০ টাকা প্রতি কেজি, পেঁপে ১২০ ও ১০০ টাকা প্রতি কেজি, বৈচি (স্থানীয় ফল) প্রায় ১৮০ টাকা প্রতি কেজি, কমলালেবু ৮০ টাকা পিস এবং তরমুজ ১২০ টাকা প্রতি কেজি বলে নথিভুক্ত করা হয়। বাজারে আগুন দামের অভিযোগ থাকলেও প্রকৃত পাইকারি মূল্য ও বিক্রি মূল্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়।
মূল্য যাচাইয়ের পাশাপাশি ফল ও সবজির গুণগতমান, সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং দোকানের পরিচ্ছন্নতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকেরা। ক্রেতাদের নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যপণ্য পৌঁছে দিতে দোকানদারদের সতর্ক করা হয়। একই সঙ্গে দোকানের সামনে বা আশপাশে অবৈধভাবে দোকান সম্প্রসারণ করে জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।
অভিযানে প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেয় প্রশাসন। প্রতিটি দোকানে বাধ্যতামূলকভাবে ডাস্টবিন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার করা হলে বা দোকানের আশপাশে নোংরা-আবর্জনা জমে থাকতে দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট দোকানির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারকে পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও নিয়ম মেনে পরিচালনা করতেই এই ধরনের নজরদারি ও সচেতনতামূলক অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।