• কাঁড়ি কাঁড়ি টাকার পাহাড়! বীরভূমের পর এবার মালদহে কোটি কোটি টাকার খোঁজ, চক্ষুচড়কগাছ পুলিশের
    News18 বাংলা | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • বীরভূমের পর টাকার পাহাড়ের হদিশ এবার মালদহে। পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমান টাকার খোঁজ মিলল মালদহের এক আবাসন থেকে। সূত্রের খবর, পুরাতন মালদহে মঙ্গলবাড়ি এলাকায় আবাসনে হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে মোট দুই কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা। এছাড়া প্রায় ২০ গ্রাম সোনাও উদ্ধার করা হয়েছে।

    ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে, ওই ফ্ল্যাটের বাসিন্দা পিন্টু সরকার-সহ তিনজনকে। ফ্ল্যাটের পাশাপাশি পিন্টুর ভাড়া নেওয়া গুদামে হানা দিয়ে উদ্ধার হয়েছে আরও নয় হাজার বোতল ‘স্কার্ফ সিরাপ’। যার বাজার মূল্য ২০ লক্ষ টাকার বেশি।

    মালদহ পুলিশের সাহায্য নিয়ে অভিযান চালায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ। বুনিয়াদপুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শুভতোষ সরকারের নেতৃত্বে রাতভর চলে গুদাম ও ফ্লাটে হানা। ভোররাত পর্যন্ত মেশিন আনিয়ে টাকা গোনার কাজ চলেছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান বাজেয়াপ্ত টাকা মাদক কারবারেরই।

    আরও পড়ুন: গঙ্গার বুকে ছুটবে দ্রুতগতির ‘Water Taxi’! শহরের যানজট কমাতে চালু হচ্ছে দূষণহীন ‘মেগা প্রকল্প’

    জানা গিয়েছে, গত ৫ জুলাই দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরের মেহেন্দিপাড়াতে প্রায় দেড় হাজার বোতল কাফ সিরাপ উদ্ধার হয়। ওই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের জেরা করে রাতে মালদহে হানা দেয় পুলিশ।

    সূত্রের খবর, মালদহে এই আবাসন এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে ভাড়া নিয়েছিল পিন্টু সরকার নামে ওই যুবক। তার আদি বাড়ি পুরাতন মালদহের নবাবগঞ্জ এলাকায়। তার ফ্ল্যাটে হানা দিয়েই উদ্ধার হয়েছে প্রায় দুই কোটি ৪১ লক্ষ টাকা। পিন্টুর পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়েছে তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক গোপাল চাকি এবং অন্যতম সঙ্গী সুশান্ত হালদারকে। ওই ফ্ল্যাট থেকে নগদ টাকার পাশাপাশি একটি কম্পিউটার বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সিল করে দেওয়া হয়েছে ফ্ল্যাটটি।

    জানা গিয়েছে, বছর আঠাশের পিন্টু সরকার নবাবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা, গত কয়েকবছর ধরেই মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত। অল্পদিনের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ টাকা করেছে এই পিন্টু। এরপর তার স্বভাব বদলে ছিল। কিছুদিন আগেই বিলাসবহুল চার চাকার গাড়ি কেনে পিন্টু। সূত্রের খবর, তৃণমূল জমানায় শাসক দলের নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিল তার।

    প্রতিবেশী ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের দাবি, অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকত পিন্টুর ফ্ল্যাট। কখনও লোকজন আসত বলেও তাঁদের জানা নেই। দুই কামরা, কিচেন, ডাইনিংসহ ফ্ল্যাটে একটি ঘরেই ছিল বিছানা-সহ খাট। পাশে আলমারি। এসি লাগানো ঘর। আছে ফ্রিজও। এই ঘরেই আলমারিতে এবং বক্স খাটে থরেথরে সাজানো ছিল টাকার বান্ডিল। মেশিন আনিয়ে টাকা গুনতে গিয়ে যত সময় বেড়েছে ততই বেড়েছে টাকার পরিমান।

    প্রথমে পুলিশ হানা দেয় খইহাট্টা এলাকায় মাদক স্কার্ফ সিরাপ এর গুদামে। সেখানে গ্রেফতার করা হয় গাড়িচালক গোপাল চাকিকে। তাকে সঙ্গে করে ফ্ল্যাটে হানা দিয়ে গ্রেফতার করা হয় পিন্টু সরকার এবং সুশান্ত হালদারকে। ফ্লাট থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে গুদামেও হানা দিয়ে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ স্কাফ সিরাপ। যদিও প্রতিবেশীদের দাবি, তাঁরা কেউই পিন্টু এবং তার ব্যবসা সম্পর্কে নাকি কিছুই জানতেন না।

    এদিন অভিযানের সময় প্রথমে পিন্টুর ঘরে ঢুকে অবাক হয়ে যায় পুলিশই। মাদক স্কার্ফ সিরাপ পাওয়া যাবে ভেবে তল্লাশি করতে গিয়ে দেখা যায় আলমারি ও খাটে ভর্তি টাকা। বিপুল পরিমাণ টাকা গুনে বাজেয়াপ্ত করতে কয়েক ঘণ্টা সময় বেরিয়ে যায়। এত টাকার উৎস সম্পর্কে কিছুই জানাতে পারেনি পিন্টু।

    তবে এই চক্রের পিছনে আরও অনেক চাঁই রয়েছে বলে স্পষ্ট অনুমান পুলিশের। পুলিশ জানিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুরে মাদক কারবারের সূত্র খুঁজতে গিয়ে মালদহের পিন্টু সরকারের নাম পাওয়া যায়। এই বিপুল অর্থ একদিনে জমা হয়নি। তাকে জেরা করে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। এই চক্রের মাথা খুঁজে বের করার চেষ্টা হবে।

    এদিকে রাতভর অভিযানের শেষে পিন্টু এবং ধৃত সঙ্গীদের গ্রেফতার করে সকালে নিয়ে যাওয়া হয় দক্ষিণ দিনাজপুরে। ধৃতদের আদালতে তুলে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেবে পুলিশ। যে ফ্ল্যাটে পুলিশের অভিযান সেই ফ্ল্যাট মালিক একসময় সক্রিয় তৃণমূল নেতা ছিলেন। যদিও এদিন তিনি দাবি করছেন, পরিচিত বলে বিশ্বাস করে পিন্টুকে ভাড়া দিয়েছিলেন। বিয়ে করে থাকবে বলেছিল। বেআইনি কাজকর্ম হত এমন জানা ছিল না।
  • Link to this news (News18 বাংলা)