তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় মামলায় ইডির বক্তব্য জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার এই মামলার শুনানি ছিল দেশের শীর্ষ আদালতে। তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করা নিয়ে ইডির সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে চায়নি কলকাতা হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে যায় তৃণমূল। এ দিন বিচারপতি এমএম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি ছিল। ১১ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানি।
প্রতিদিনের খরচ চালানোর জন্য কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত প্রশাসকের নজরে থাকা তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া যায় কি না সে বিষয়ে ইডির কাছে জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট। এ দিন তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিবাল। তিনি আদালতকে জানান, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় থাকার কারণে কর্মীদের মাইনে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পাল্টা ইডির তরফে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু অভিযোগ করেন, সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করা হয়নি। প্রত্যেকদিন টাকার লেনদেনও হচ্ছে। বিচারপতি এমএম সুন্দ্রেশ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁরা মূল মামলার মেরিট খতিয়ে দেখছেন না। অন্তর্বর্তী স্বস্তির যে আবেদন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত ১৮ জুন বিধাননগর সাইবার থানায় তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস অভিযোগ করেছিলেন যে, তাঁদের দলীয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বেআইনি লেনদেন হয়েছে। তার ভিত্তিতে ইডি একটি মামলা নথিভুক্ত করে (ইসিআইআর) তদন্তে নেমে তৃণমূলের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করে দেয়। ইডির এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির।
সেই মামলা ওঠে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের ডিভিশন বেঞ্চে। যদি হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ কোনও অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে চায়নি। আদালত জানিয়েছিল, আপাতত ইডির সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। এর পরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাট-তৃণমূল।