• ডিউটির ছবি তখনও তাজা! একধাক্কায় তছনছ সংসার, দুই ফুটফুটে মেয়েকে রেখেই চিরবিদায় তরতাজা সিভিকের
    News18 বাংলা | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • : থানার দায়িত্ব সামলে বাড়ি ফিরেছিলেন, কিন্তু কয়েক ঘণ্টার বিশ্রামটুকুও কপালে জোটেনি। রবিবার ভোরবেলায় রুটি-রুজির তাগিদে ফের বাড়ি থেকে বেরোতে হয়েছিল কলকাতার উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেই পথই যে শেষ পথ হয়ে দাঁড়াবে, তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি কেউ। বাগনান এলাকায় এক মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারালেন তমলুকের উত্তর উসুতপুর গ্রামের সিভিক ভলেন্টিয়ার বুদ্ধদেব মান্না (৩৪)। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়েছে পুরো গ্রামজুড়ে।

    সিভিক ভলেন্টিয়ারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবারকে একটু সুখে রাখতে হোসিয়ারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বুদ্ধদেব। শনিবার রাতেও তমলুক থানায় নিয়মমাফিক নাইট ডিউটি শেষে রবিবার ভোর চারটে নাগাদ বাড়ি ফেরেন তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ হিসেবে সামান্য বিশ্রাম নিয়েই ব্যবসার জামাকাপড় নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বাগনানের কাছে একটি তিন চাকার পণ্যবাহী গাড়ির ছাদে বসে যাওয়ার সময় পিছন থেকে একটি দ্রুতগতির ট্রাক সজোরে ধাক্কা মারে গাড়িটিকে।

    ধাক্কার তীব্রতায় রাস্তায় ছিটকে পড়েন বুদ্ধদেব এবং তাঁর মাথার পেছনে মারাত্মক আঘাত লাগে। একই সময়ে গাড়িতে থাকা হোসিয়ারির ভারী মালের বস্তাগুলো তাঁর শরীরের ওপর এসে পড়ে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তাঁর পরিবার ও সহকর্মীরা। তবে দীর্ঘক্ষণ ধরে ময়নাতদন্তে টালবাহানা চলে। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাক্তন তমলুকের সাংসদ ও বর্তমান এগরার বিধায়ক দিব্যেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারপরেই উলুবেরিয়া হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্তের পর দেহ হাতে পায় পরিবার।

    মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তর উসুতপুর গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। সহকর্মীরা জানান, “ভোররাত সাড়ে তিনটে নাগাদও তিনি পুলিশ কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের গ্রুপে নিজের ছবি পোস্ট করেছিলেন। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এমন তাজা প্রাণ নিভে যাবে, তা মেনে নিতে পারছেন না কেউই।” অকালপ্রয়াত এই সিভিক ভলেন্টিয়ারের পরিবারে রয়েছে স্ত্রী, দুই ছোট্ট কন্যা এবং বৃদ্ধ বাবা-মা। বাড়ির একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি ছিল ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার। ফলে তার পরিবারের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)