ধর্ষণের অভিযোগ জানানোর মূল্য চোকাতে হলো নির্যাতিতাকেই। সালিশি সভা বসিয়ে থুতু চাটতে বাধ্য করা হলো মহিলাকে। বিহারের বেগুসরাই জেলায় চাঞ্চল্যকর এবং চরম অপমানজনক ঘটনায় প্রবল শোরগোল পড়েছে। জুন মাসে ঘটনাটি ঘটলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ঘটনাটির খবর প্রকাশ্যে আসার পরে বেগুসরাই পুলিশ FIR দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনাটি ঘটে বেগুসরাইয়ের বলিয়া থানা এলাকায়। ১ অগস্ট দায়ের হওয়া FIR অনুযায়ী, মহিলার অভিযোগ, গত ২ এবং ৪ জুন রাতে তাঁর প্রতিবেশী নীতীশ নামে এক যুবক জোর করে তাঁর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে। নির্যাতিতার স্বামী কাজের সূত্রে তামিলনাড়ুতে থাকায় তিনি সেই সময়ে বাড়িতে একা ছিলেন। তাঁর সঙ্গে বাড়িতে ছিল দুই নাবালক সন্তান। ধর্ষণের পরে অভিযুক্ত যখন পালাচ্ছিল, তখন কয়েকজন গ্রামবাসী তা দেখে ফেলেন। তবে অভিযুক্তকে শাস্তি দেওয়ার বদলে তাঁরা উল্টে ওই মহিলাকেই দোষী সাব্যস্ত করেন।
গত ৫ জুন গ্রামে একটি সালিশি সভা বসানো হয়। সেখানে উপস্থিত থাকা মাতব্বরেরা নির্যাতিতার ওপর পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার তকমা লাগিয়ে দেয়। অভিযোগ, স্থানীয় ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের ছেলে সঞ্জয় যাদব ও অভিযুক্তের মায়ের উপস্থিতিতে ওই মহিলাকে প্রকাশ্যে হাঁটু গেড়ে বসতে, কান ধরতে এবং মাটিতে ফেলা থুতু চাটতে বাধ্য করা হয়। ভিডিয়োটির শুরুতে দেখা যায়, গ্রামবাসীরা মহিলাটিকে ঘিরে রেখেছে এবং তিনি কান ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। এরপর তাকে ঝুঁকে মাটি থেকে থুতু চেটে খেতে দেখা যায়। উপস্থিত গ্রামবাসীদের কাউকেই এই বর্বরতার প্রতিবাদ করেননি বলে অভিযোগ।
প্রাথমিকভাবে নির্যাতিতা মহিলা ভয়ে চুপ থাকলেও পরে ফোনে স্বামীকে পুরো বিষয়টি জানান। দম্পতি থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে গেলে প্রথমে পুলিশ তা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করে বলে অভিযোগ। কিন্তু সম্প্রতি সালিশি সভার ভিডিয়ো নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার পরেই গত ১ অগস্ট পুলিশ FIR দায়ের করে।
বেগুসরাইয়ের ডিএসপি (সদর) নিখিল কুমার জানিয়েছেন, ‘ভাইরাল ভিডিয়োটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। ধর্ষণে মূল অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক এবং তার খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’ ভিডিয়োটি আসল প্রমাণিত হলে পঞ্চায়েতের বৈঠকে উপস্থিত ও এই জঘন্য কাজের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন DSP।
বিহারের বেগুসরাই জেলার বলিয়া থানা এলাকার একটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী এক ব্যক্তি ২ ও ৪ জুন রাতে তাঁর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করে।
অভিযোগ, গ্রামের সালিশি সভায় নির্যাতিতাকে কান ধরে দাঁড় করানো, হাঁটু গেড়ে বসানো এবং মাটিতে ফেলা থুতু চাটতে বাধ্য করা হয়।
ঘটনার একটি ভিডিয়ো সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
১ অগস্ট পুলিশ FIR দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে। ভাইরাল ভিডিওর সত্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, ধর্ষণের মূল অভিযুক্ত বর্তমানে পলাতক এবং তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
ভিডিয়োটি সত্য প্রমাণিত হলে সালিশি সভায় উপস্থিত এবং নির্যাতিতাকে অপমান করার ঘটনায় জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ভাইরাল ভিডিয়ো, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।