রাজ্যে পালাবদলের পরেই ২০ জন সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি-তে (NCPI) যোগ দিয়েছিলেন। সংসদে তাঁরা NDA-কে সমর্থন করছেন। যদিও গত সপ্তাহে NDA সংসদীয় দলের বৈঠকে NCPI-এর তিন সাংসদ উপস্থিত না থাকায় জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে NCPI-এর মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করলেন, ২০ জনের প্রত্যেকেই তাঁদের দলের সঙ্গে রয়েছেন। কেউ দল ছেড়ে যাচ্ছেন না।
সোমবার সকালে দিল্লি রওনা দেন কাকলি। রাজধানীতে NCPI সদস্যদের নিয়ে একটি মিটিং রয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মাঝেই NCPI-এ ভাঙনের বিষয়টি নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও কাকলির দাবি, ‘আমাদের একটা মিটিং হওয়ার কথা আছে। আমরা ২০ জন সব সময়ে একসঙ্গে থাকছি। আরও দু-একজন সাংসদ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।’
সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায়ের একটি মন্তব্যে আলোচনা শুরু হয়। সৌগত বলেন, ‘সকলের সঙ্গেই যোগাযোগ ছিল। এখনও রয়েছে। এই যে তৃণমূলের প্রতি ক্ষোভ ছিল, দল ছেড়েছিল ঠিক আছে। তারপর তৃণমূল থেকে এনসিপিআই হল, তারপর এনডিএ হলো, এটা অনেকেরই ভাল লাগছে না। এর মধ্যে মুসলিম সাংসদরা রয়েছেন।’ গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) NCPI-এর তিন সাংসদ আবু তাহের, খলিলুর রহমান ও ইউসুফ পাঠান উপস্থিত ছিলেন না বলে খবর। এর পরেই জল্পনা আরও বাড়ে। যদিও বিষয়টি নিয়ে এই তিন সাংসদ সংবাদমাধ্যমে কিছু জানাননি।
অন্য দিকে তৃণমূলের একাংশের দাবি, বেশ কয়েকজন সাংসদ তৃণমূলের ফেরার তোড়জোড় করলেও বিজেপির চাপে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে কাকলির বক্তব্য, ‘এই রকম কোনও চাপ নেই। নিজের ইচ্ছায় সবাই এসেছেন। এই যে বালি চুরি, কয়লা চুরি, সোনা চুরি– এগুলি তো অপরাধ, সেটা সংবাদমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। তার জন্য তৃণমূল ছেড়ে অনেকে চলে এসেছেন।’ কাকলি এটাও দাবি করেছেন, উল্টে আরও দু-তিন জন সাংসদ তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে আসতে চাইছেন। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে আলোচনা চলছে।