জল্পনার অবসান, রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান অনিল বর্মা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ০৩ আগস্ট ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (WBPSC) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক অনিল বর্মাকে (Anil Verma) নিয়োগ করল রাজ্য সরকার। সোমবার অর্থাৎ ৩ আগস্ট, নবান্নের অর্থ দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ৩১৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাজ্যপাল এই নিয়োগে সম্মতি দিয়েছেন। অনিল বর্মা দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকেই তাঁর নিয়োগ কার্যকর হবে। অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব প্রভাত কুমার মিশ্র স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তির কপি মুখ্যসচিব, রাজ্যপালের সচিব, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সচিব-সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিতে পাঠানো হয়েছে।
এই নিয়োগ প্রশাসনিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে শূন্যপদ পূরণ, নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত একাধিক প্রক্রিয়া নিয়ে যখন জোর চর্চা চলছে, সেই সময়েই রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের শীর্ষপদে নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ হল।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দেবল রায়কে নিয়োগ করেছিলেন প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি কমিশনের সদস্য হিসেবে দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, দিগন্ত বাগচী এবং বর্ণালী মুখোপাধ্যায়কে নিযুক্ত করা হয়েছিল।
অনিল বর্মা (Anil Verma) পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ১৯৮৯ ব্যাচের অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক। ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। নেতাজি সুভাষ প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর এবং পশ্চিমবঙ্গ মূল্যায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন। ৩৭ বছরের চাকরিজীবনে ২৭টি পদে কাজ করেছেন। ফরাসি ভাষায় পারদর্শী, অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর অনিল (Anil Verma) উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা।
প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সেই অভিজ্ঞতাকেই কমিশনের কাজে লাগাতে চাইছে রাজ্য সরকার বলে প্রশাসনিক সূত্রের ধারণা।পাবলিক সার্ভিস কমিশন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন গ্রুপ-এ, গ্রুপ-বি এবং অন্যান্য সরকারি পরিষেবার জন্য নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ ও মেধাতালিকা তৈরির দায়িত্বে থাকে। ফলে চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ কমিশনের প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনিল বর্মা (Anil Verma) দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই কমিশনের কাজকর্মে নতুন গতি আসতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলের একাংশের আশা।