• যুব নেতার উপর গুলি চালানোর ঘটনায় অভিযুক্ত আরও ১ নেতা
    বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: এবার বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। শনিবার রাতে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বিজেপির যুব মোর্চার নেতা সুজন গরাই। তাঁকে রাতেই আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রবিবার তাঁকে কলকাতায় রেফার করা হয়েছে। সুজন আরামবাগের গৌরহাটির বাসিন্দা। পেশায় রাজমিস্ত্রি। তাঁর ডান পায়ে হাঁটুর উপরে গুলি লাগে। বিজেপির যুব নেতার উপর গুলি চালানোর ঘটনায় গেরুয়া শিবিরেরই অঞ্চলের আহ্বায়ক সরোজ লাগাকে গ্রেপ্তার করেছে আরামবাগ থানার পুলিশ। ফলে এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধৃতকে এদিন আরামবাগ মহকুমা আদালত তিনদিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ হয়েছে। 

    গুলিবিদ্ধ বছর তিরিশের সুজন বিজেপির গৌরহাটি ২ অঞ্চলের যুব সংগঠনের সহ সভাপতি। তিনি এদিন হাসপাতালে শুয়ে বলেন, মাঝেমধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে ডোঙ্গল বাজারে যাই। শনিবারও গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় আচমকা পায়ে গুলি এসে লাগে। তার আগে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালানো হয়। গুলি লাগার পর সংজ্ঞা হারাই। সরোজ, মাধবরা আক্রমণ করেছিল। ওরা বিজেপির নামের আড়ালে  দুষ্কৃতী। আমার সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল না। কেন এমনভাবে আক্রমণ করা হল তাও বুঝতে পারছি না। আতঙ্কের মধ্যে আছি। এর আগে অবশ্য সরোজ আমাদের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। সুজনের বাবা রবীন গরাই পেশায় দিনমজুর। তিনি বলেন, আমি কোনোদিন কোনো পার্টি করিনি। ছেলের সঙ্গে কিভাবে কী হয়েছে জানি না।

    বিজেপির যুব মোর্চার আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি কার্তিক দত্ত এদিন হাসপাতালে খোঁজ নিতে যান। তিনি বলেন, আরামবাগ ৪ নম্বর মণ্ডলের সহ সভাপতির বাড়িতে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করাতেই আরেক সহ সভাপতি সুজনের উপর গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তাঁর পায়ে একটি গুলি লেগেছে। অভিযুক্তরা বিজেপি করে বলে আমার জানা নেই। তারা দুষ্কৃতী। আমরা চাই এই ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতীদের কঠোর শাস্তি হোক। 

    এদিকে বিজেপির আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগ বলেন, সরোজকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। সে দীর্ঘদিনের বিজেপি কর্মী। ভোটের ফল বেরোনোর পর তৃণমূলের যারা বিজেপি নেতা হয়েছে, তারা এলাকা দখল করার পরিকল্পনা করেছিল। অভিযুক্ত সরোজ লাগা এদিন আদালতে যাওয়ার পথে বলে, আমি সক্রিয় বিজেপি কর্মী। কনভেনরের দায়িত্বে আছি। তৃণমূলের যে সমস্ত নেতারা বিজেপি সেজেছে, তারা আমার বাড়িতে ওইদিন হামলা চালায়। আমার একটি হাতের একাংশ নেই। আমি গুলি চালাব কী করে? মিথ্যে অভিযোগ করা হচ্ছে।  আরামবাগের তৃণমূল নেতা পলাশ রায় বলেন, সবেমাত্র ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তারমধ্যেই নিজেদের মধ্যে গুলি চালানোর ঘটনায় আইন শৃঙ্খলার অবনতির কথাই স্পষ্ট হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুলিবিদ্ধ যুব নেতার পরিবারের তরফে আরামবাগ থানায় আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তারমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, বুলেট ইনজুরি রয়েছে কি না, হাসপাতালের রিপোর্টও দেখা হবে। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, যুব নেতার উরু গুলিতে এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে গিয়েছে। শরীরের ওই অংশে শিরা, উপশিরা, মাসল প্রভৃতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করে রেফার করা হয়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)