• ‘সব প্রণামি চোরই বিজেপি’, কংগ্রেসের নয়া স্লোগানে আজ তোলপাড় হবে সংসদ
    বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিন, অর্থাৎ ২০ জুলাই শুধু সভার অন্দরে দেখা গিয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে। অথচ রোজই তিনি সংসদ ভবনে আসছেন। একই পথ অনুসরণ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাই ‘মোদি-শাহ সদন মে আও। সদন মে আ কে জবাব দো’—বিরোধীদের এই স্লোগানে প্রায় প্রতিদিন উত্তাল হচ্ছে সংসদ। গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো মাথাচাড়া দিয়েই রয়েছে রামমন্দির ইস্যু। আজ, সোমবারও এই ইস্যুতে অচল হবে সংসদ। তেমনই পরিকল্পনা বিরোধীদের। গত শুক্রবার সংসদ চত্বরে পথনাটিকার আঙ্গিকে প্রণামি চুরির অভিনব প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে। তার জেরে রাহুল গান্ধী, পাপ্পু যাদব এবং অবধেশ প্রসাদের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে বিজেপি। তাতেও থেমে নেই কংগ্রেস। রবিবার এআইসিসিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসের রাজ্যসভার ডেপুটি লিডার প্রমোদ তিওয়ারি তোপ দেগেছেন। বলেছেন, ‘রামমন্দিরে স্রেফ প্রণামি চুরিই হয়নি। আস্থা চুরি হয়েছে। ভক্তদের ভক্তির টাকা লুট হয়েছে। আর সেই চুরি করেছে বিজেপি।’ কৌশলে তিনি বলেন, ‘বিজেপির সবাই প্রণামি চোর, এটা বলছি না। কিন্তু সব প্রণামি চোরই বিজেপি। সঠিক তদন্ত হলেই সেটা ধরা পড়বে।’ সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) তৈরি করে তদন্তের দাবি তুলে প্রমোদ তিওয়ারি বলেন, ‘রামমন্দিরের প্রণামি চুরিতে এখনও পর্যন্ত চুনোপুঁটি কয়েকজন ধরা পড়েছে। রাঘব বোয়ালদের ধরতে হবে।’ 

    বার্তাটা স্পষ্ট, ‘সব প্রণামি চোরই বিজেপি’—এই স্লোগান এবার অস্ত্র হতে চলেছে কংগ্রেসের। প্রমোদ তিওয়ারি বলেছেন, ‘মনে রাখবেন, রামমন্দির কিন্তু বিজেপি তৈরি করতে চায়নি। স্রেফ রামমন্দির ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করতে চেয়েছে। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মোদি সরকার রামমন্দির তৈরি করতে বাধ্য হয়েছে।’ শিলান্যাস থেকে প্রাণ প্রতিষ্ঠা, ব্যাপক হারে দুর্নীতির অভিযোগ করে কংগ্রেস মুখপাত্র বলেন, ‘২ কোটির জমি ১৭ কোটি টাকায় কেনা, মন্দির উদ্বোধনে ১১৩ কোটি টাকা, ১০ কোটি ১২ লক্ষ টাকার সাজসজ্জার খরচ দেখিয়ে ব্যাপক চুরি হয়েছে। আসলে কংগ্রেস হল ভগবান রাম কা পূজারি। বিজেপি রাম কে ব্যাপারি (ব্যবসাদার)। স্রেফ সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়া ৪০ দিনে ৭০ বার চুরিই নয়, অনেক আগে থেকেই লুট চলছে অযোধ্যায়। তাই চুরির পিছনে মদত দেওয়া রাঘব বোয়ালদের ধরতেই হবে।’ 

    এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সংসদ চত্বরে গেরুয়া বসনে পথনাটিকার জন্য যদি থানায় অভিযোগ হয়, তাহলে তো নবরাত্রিতে রামলীলার অভিনেতা, অভিনেত্রীদের বিরুদ্ধেও এফআইআর করতে হবে। তার জবাব কি বিজেপির কাছে আছে? আর গেরুয়া বসন পরতে কি বিজেপির অনুমতি নিতে হবে নাকি?’ প্রমোদ তিওয়ারির প্রশ্ন, ‘মোদিজি যখন বালক রামকে হাত ধরে মন্দিরে নিয়ে যাচ্ছেন বলে সাজানো ছবি বিজেপি ভাইরাল করে, হনুমানজির ছবি দেওয়া ঘুড়ি ওড়ান প্রধানমন্ত্রী, তখন সনাতন ধর্মে আঘাত লাগে না? আমরা করলেই দোষ?’ 
  • Link to this news (বর্তমান)