মহিলা কুস্তিগিরদের যৌন হেনস্তা মামলায় বেকসুর খালাস ব্রিজভূষণ
বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৬
নয়াদিল্লি, ৩ আগস্ট: আজ সোমবার প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ এবং ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিং এবং সহ-অভিযুক্ত বিনোদ তোমরকে মহিলা কুস্তিগিরদের দায়ের করা যৌন হেনস্তার মামলায় বেকসুর খালাস করল দিল্লি আদালত।
এদিন সংবাদ মাধ্যমকে তিনি জানান, 'অভিযোগ ওঠার দিনই তিনি জানিয়েছিলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি স্বেচ্ছায় কঠোরতম শাস্তি মেনে নেবেন। আদালতের রায়ে তিনি খালাস পাওয়ায় বিচারব্যবস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, আদালত তাঁকে 'সম্মানজনকভাবে খালাস' দিয়েছে।
উল্লেখ্য, মহিলা কুস্তিগিরদের আন্দোলনের জেরে দিল্লির জন্তরমন্তরে দীর্ঘদিন বিক্ষোভ চলার পর দিল্লি পুলিশ ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে। অভিযোগ ছিল, ডব্লিউএফআই-এর সভাপতি থাকাকালীন সময়ে তিনি ভারতীয় ও বিদেশি একাধিক মহিলা কুস্তিগিরকে যৌন হেনস্তা করেছিলেন। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১৫ জুন দিল্লি পুলিশ প্রায় ১,৫০০ পাতার চার্জশিট আদালতে জমা দেয়। এরপর দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মামলার শুনানি চলতে থাকে। ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। মধ্যে পাঁচটি মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ এবং ৩৫৪ডি ধারায় চার্জ গঠনের নির্দেশ দেন বিচারক। যার মধ্যে একটি মামলা খারিজ হয়ে যায়। একই সঙ্গে সহ-অভিযুক্ত বিনোদ তোমারের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় চার্জ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালের ২০ জুলাই আদালত শর্তসাপেক্ষে ব্রিজভূষণের জামিন মঞ্জুর করে। ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দেশের একাধিক শীর্ষ কুস্তিগির প্রতিবাদ আন্দোলনে সামিল হন। আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন ওলিম্পিক পদকজয়ী সাক্ষী মালিক, বজরং পুনিয়া এবং আন্তর্জাতিক কুস্তিগির বিনেশ ফোগাট। তাঁদের অভিযোগ ছিল, কুস্তি ফেডারেশনের তৎকালীন প্রধান হিসেবে ব্রিজভূষণ ক্ষমতার অপব্যবহার করে মহিলা কুস্তিগিরদের যৌন হেনস্থা করেছেন।
এই বিতর্কের রাজনৈতিক প্রভাবও পড়েছিল। বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশের কৈসরগঞ্জ কেন্দ্র থেকে ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে প্রার্থী করেনি বিজেপি। পরিবর্তে দল তাঁর ছেলে করণ ভূষণ সিংকে প্রার্থী করে, যিনি শেষ পর্যন্ত ওই আসনে জয়ী হন।