• দেড় দশকে তৃণমূল মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধান করেনি: অগ্নিমিত্রা পাল
    বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার মানুষের প্রাথমিক বা মৌলিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেনি। রবিবার শিলিগুড়িতে নাগরিকদের ‘মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানের পর এ কথা বলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একইসঙ্গে তিনি দৈনিক হাজিরার সাফাই কর্মীদের দিনে দ্বিগুণ মজুরি প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। 

    অন্যদিকে, মুখোমুখি মন্ত্রী অনুষ্ঠানে শহরের বেআইনি নির্মাণ, বেহাল রাস্তা ও পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে একাধিক অভিযোগ করেন নাগরিকরা। এমনকী, আদালত নির্দেশ দেওয়ার পরও পুরসভা বেআইনি বিল্ডিং ভাঙছে না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। সবটা শুনে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন মন্ত্রী। 

    পুরমন্ত্রী হওয়ার পর এদিন দ্বিতীয়বার শিলিগুড়ি সফরে আসেন অগ্নিমিত্রা। তিনি পুরভবনে ফোনে ‘মুখোমুখি’ কর্মসূচি করেন। সকাল ১১টা নাগাদ কর্মসূচির সূচনা হয়। চলে ১২টা পর্যন্ত। তাঁর এই এক ঘণ্টার কর্মসূচি হিট। তাঁর সঙ্গে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের শীর্ষ কর্তারাও হাজির ছিলেন। 

    পরে পুরমন্ত্রী বলেন, এদিনের অনুষ্ঠানে ৩৭টি কল এসেছে। যারমধ্যে ৩৪টি কলই শিলিগুড়ি শহর সংক্রান্ত। এরবাইরে দু’টি গ্রামীণ এলাকা এবং একটি কলকাতা থেকেও ফোনকল আসে। রাস্তা, পানীয় জল, পথবতি, নিকাশির সমস্যা, বর্ষায় জলজমা নিয়ে ফোন এসেছে। ১৫ বছর ধরে বিগত সরকার এই মূল সমস্যাগুলি মেটানোর চেষ্টা করেনি। কারণ, তাদের কাছে অগ্রাধিকার ছিল অন্যকিছু। কিন্তু, আমাদের শুভেন্দু অধিকারীর সরকার আপনাদের  কাছে দায়বদ্ধ। আমরা সমস্যাগুলি গুরুত্ব দিয়ে মেটাব। 

    তৃণমূল অবশ্য মন্ত্রীর বক্তব্য মানতে নারাজ। দলের দার্জিলিং জেলা সভাপতি (সমতল) কুন্তল রায় বলেন, গত ১৫ বছরের মধ্যে শিলিগুড়ি পুরসভায় তৃণমূল ছিল মাত্র সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর। বাকি সময়গুলি সিপিএম ও কংগ্রেস ছিল। উনি নতুন মন্ত্রী হয়েছেন। রাজনীতির ইতিহাস না জেনে আবোল-তাবোল বকছেন। 

    এদিকে, এদিন ‘মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে পুরমন্ত্রীকে ফোন করে দৈনিক হাজিরার এক শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির দাবি করেন। মন্ত্রী বলেন, শহরের ব্যস্ত জায়গা দু’বার করে ঝাঁট দিতে হবে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে ঝাঁট দেওয়ার যে মজুরি পাচ্ছেন, বিকেলে ঝাঁট দেওয়ার জন্য সেই মজুরিই পাবেন দৈনিক হাজিরার সাফাই কর্মীরা। পুরসভার আধিকারিকদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে। 

    এর বাইরে বেআইনি নির্মাণ, পরিত্যক্ত জমি পরিষ্কার না করা, খাটাল নিয়েও অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেন নাগরিকরা। এক নাগরিকের অভিযোগ, আদালত বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ দিলেও পুর কর্তৃপক্ষ তা কার্যকর করছে না। আরএকজন বলেন, বসতি এলাকায় পরিত্যক্ত জমিতে জমছে বর্জ্যের স্তূপ। পুরমন্ত্রী বলেন, বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হবে। আর পরিত্যক্ত জমিটি যাঁর, তাঁকেই পরিষ্কার করতে হবে সেই জমি। 

    • নিজস্ব চিত্র।
  • Link to this news (বর্তমান)