জাল এসসি, এসটি চক্র সমূলে উৎখাত না করা পর্যন্ত থামব না
বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৬
রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন ও সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সাক্ষাৎকার
প্রশ্ন: শপথ নেওয়ার পর জাল জাতিগত শংসাপত্র প্রাপকদের চিহ্নিতকরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই কাজ কতদূর এগিয়েছে?
উত্তর: আমরা ইতিমধ্যেই প্রচুর জাল শংসাপত্র বাতিল করেছি। একইসঙ্গে ভুয়ো এসি ও এসটি সার্টিফিকেট রয়েছে, এমন কয়েকজনকেও চিহ্নিত করা গিয়েছে। শংসাপত্রপ্রাপক ও তা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ওই চক্র সমূলে উৎখাত না করা পর্যন্ত থামব না।
প্রশ্ন: আপনি একজন শিক্ষক, জঙ্গলমহলে শিক্ষার উন্নতিতে কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?
উত্তর: তৃণমূল জমানায় আদিবাসী হস্টেলগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আগামী জানুয়ারি মাস থেকে তা আমরা খুলে দেব। আদিবাসী অধ্যুষিত ব্লকে আরও ১০টি নতুন একলব্য মডেল স্কুল তৈরির জন্য কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব দিয়েছি। ওই স্কুল গড়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্লকে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি আদিবাসী থাকতে হয়। তা কমিয়ে ৩০ শতাংশ করলে বহু আদিবাসী ছাত্রছাত্রী উপকৃত হবে। এব্যাপারেও কেন্দ্রের কাছে তদ্বির করেছি। অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার কাছে আবেদন করলে তানিয়ে যথাযথ জায়গায় সুপারিশ করব। স্কুলে আধুনিক গ্রন্থাগার সহ অন্যান্য পরিকাঠামো উন্নয়নের উপরেও আমি জোর দিয়েছি।
প্রশ্ন: বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়ক সংস্কারের কয়েকমাসের মধ্যে বেহাল হয়ে পড়েছে। বর্ষায় জঙ্গলমহলের ‘লাইফলাইন’ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়ায় কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
উত্তর: যতদূর শুনেছি, ওই রাস্তা নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন ও পূর্তদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে। রাস্তা সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে আধিকারিকরা কথা বলছেন। দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।
প্রশ্ন: জঙ্গলমহলে পথশ্রী, রাস্তাশ্রী প্রকল্পের কাজ নিয়েও অনেক অভিযোগ উঠছে। এব্যাপারে কী বলবেন?
উত্তর: তৃণমূল আমলে হওয়ার সিংহভাগ রাস্তার মান খারাপ। কিছু জায়গায় ঠিকাদার অর্ধেক কাজ করার পর পাততাড়ি গুটিয়ে চলে গিয়েছেন। আমরা ওইসব কাজের গুণগত মান ইঞ্জিনিয়ারদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখব। অসমাপ্ত কাজের ক্ষেত্রে ঠিকাদাররা কত টাকা পেমেন্ট পেয়েছেন, তা দেখা হচ্ছে।
প্রশ্ন: আপনার বিধানসভা কেন্দ্র রানিবাঁধে পানীয় জলের দাবিতে বিক্ষোভ-আন্দোলন হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি মেটাতে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন?
উত্তর: রানিবাঁধ, হীড়বাঁধ, খাতড়া সহ আশপাশের এলাকায় পানীয় জলের সংকট রয়েছে। বহু জায়গায় পাইপ পাতা হলেও জল পৌঁছয়নি। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের সঙ্গে ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। আগামী খরা মরশুমের আগে যাতে সমস্যা মেটে তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছি।
প্রশ্ন: জঙ্গলমহলের ব্লকগুলিতে এখনো চাষিদের আকাশের বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। ডবল ইঞ্জিন সরকার বাঁকুড়ায় সেচের জন্য কোনো পরিকল্পনা নিচ্ছে?
উত্তর: বড়ো কোনো সেচ প্রকল্প রূপায়ণ করতে কিছুটা সময় লাগবে। তার আগে ছোটো নদী বা জোরবাঁধ রয়েছে এমন পঞ্চায়েতপিছু অন্তত একটি করে চেকড্যাম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদ সহ অন্যান্য দপ্তরের মাধ্যমে সেচ সহায়ক আরও প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।
উত্তর: খাতড়া মহকুমা হাসপাতালকে আধুনিক মানের করা হচ্ছে। বেডসংখ্যা ১৪০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫০ করার প্রস্তাব রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরে জমা দিয়েছি। শীঘ্রই তা অনুমোদন পেয়ে যাবে। ওই হাসপাতালে ডিজিটাল এক্সরে, এমআরআই, সিটি স্ক্যানের মেশিন বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমার বিধানসভা এলাকার রানিবাঁধ, সিমলা ও হীড়বাঁধ ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ কেন্দ্রে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বসবে। এছাড়াও মশিয়ারা, মলিয়ান, বারিকুল ও ঝিলিমিলি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নতুন ভবন নির্মাণ হবে।
প্রশ্ন: জঙ্গলমহলের পর্যটন ও সামগ্রিক পরিকাঠামো উন্নয়নে কী কী পরিকল্পনা রয়েছে?
উত্তর: মুকুটমণিপুরকে কেন্দ্র করে পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলা হচ্ছে। ঝিলিমিলির সঙ্গে পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামের যোগ রয়েছে। ফলে পর্যটকরা একসঙ্গে তিন জেলা ঘুরতে পারবেন। ছেন্দাপাথরের ক্ষুদিরামের স্মৃতি বিজরিত উদ্যানকে ঢেলে সাজানো হবে। খাতড়ার গুরুসদয় মঞ্চেরও সংস্কার প্রয়োজন। এক বছরের মধ্যে ছাতনা-মুকুটমণিপুর রেলপথের কাজ শুরু হয়ে যাবে। ঝাড়গ্রাম-পুরুলিয়া রেল প্রকল্প রূপায়িত হলে তা মুকুটমণিপুরকে ছুঁয়ে যাবে। আগামী দিনে জঙ্গলমহলবাসী প্রকৃত উন্নয়নের স্বাদ পাবে।