হাওড়ার প্রমোটার খুনে ভাট্টি নেটওয়ার্ক, ‘অ্যাসেট’ হামিমকে জেরায় বিস্ফোরক তথ্য এসটিএফের হাতে
বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৬
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: শুধু নেটওয়ার্ক বিস্তার নয়, শাহজাদ ভাট্টি গ্যাং এরাজ্যে ‘অপারেশন’ও সেরেছে। তোলা না দেওয়ায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হাওড়ার পিলখানায় এক প্রমোটারকে ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক’ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন তাকে খুব কাছে থেকে গুলি করে খুন করে। মাথা এবং বুকে গুলি করা হয়। এসটিএফ জয়েশ জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে জেরা করে জানতে পারে প্রমোটার খুনের নেপথ্যেও ছিল ভাট্টি নেটওয়ার্ক। দাবি মতো টাকা না দেওয়ার কারণেই তাকে খুন করা হয়েছিল। স্থানীয়দের কাজে লাগিয়েই এই অপারেশন সারা হয়েছিল। খুনিরা প্রমোটারের পরিচিত ছিল। ভাট্টি নেটওয়ার্ক দেশজুড়ে আরও অনেকের কাছেই তোলা চেয়েছিল। বেশকিছু ফান্ড তারা জোগাড়ও করেছিল। সেই টাকাতেই নেটওয়ার্ক বিস্তারের কাজ করতে থাকে।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভাট্টি গ্যাং হামিমকে তাদের ‘অ্যাসেট’ বলে মনে করত। টেকনলেজি সম্পর্কে তার অগাধ জ্ঞান রয়েছে। সে নিজস্ব একটি অ্যাপস তৈরির চেষ্টাও করছিল। তার মাধ্যমেই গোপনে আলোচনা চালানোর পরিকল্পনা করে। তারা এখন তিন থেকে চারটি অ্যাপসের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে কথা বলত। হামিম এরাজ্যে নেটওয়ার্ক বিস্তারের পাশাপাশি দেশের অন্য প্রান্তের যুবকদেরও মগজ ধোলাইয়ের চেষ্টা করে। তহবিল জোগাড়ের জন্য সে ‘সাইবার ক্রাইম’ও করে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। সে নেটওয়ার্ক বিস্তারে তার বাকদত্তা অর্পিতা সরকারকে পুরোদমে কাজে লাগিয়েছে। যখনই প্রয়োজন হত, তখনই তাকে দিয়ে হানিট্র্যাপের জাল ছড়িয়েছিল।
হামিম কীভাবে ভাট্টি গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত হল? গোয়েন্দাদের প্রাথমিক জেরায় সে জানিয়েছে, প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ার একটি জনপ্রিয় অ্যাপসের মাধ্যমে পাকিস্তানের রানা নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। প্রথম দিকে সাধারণ কথা হত। তারপর ধীরে ধীরে তার মগজ ঢোলাই করা হয়। ভাট্টি গ্যাং জেন জি’দের তাদের নেটওয়ার্কে নিয়োগ করে। হামিমের মতো অনেকেই একইভাবে এই গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠে। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছে, এখন ভাট্টি গ্যাং তহবিল সংগ্রহেই বেশি জোর দিয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল হাওড়ার প্রতিমন্ত্রীর ছেলেকে অপহরণ করলে মোটা টাকা আসতে পারে। ঠিক একই কায়দায় ২০০১ সালে খাদিম কর্তাকে আফতাব আনসরির গ্যাং অপহরণ করে মোটা টাকা জোগাড় করেছিল। সেই টাকাতেই তারা নাশকতা চালিয়েছিল। একইভাবে ভাট্টি গ্যাংও অপারেশন চালাত। এক বছরের বেশি সময় ধরে তারা তহবিল জোগাড়ের চেষ্টা করে। হাওড়ার ওই প্রমোটারও তাদের শিকার হয়েছিল। নেটওয়ার্কের একদম নীচে থাকা সদস্যদের দিয়েই অপারেশন চালানো হয়েছিল। তার আগে তাঁকে একাধিকবার ফোন করে তোলা চাওয়া হয়েছিল। তিনি তা না দেওয়াতেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। হামিমকে জেরার পর এই তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে আসে। তারপর থেকে ওই ঘটনা সম্পর্কে তারা নতুন করে তথ্য জোগাড় করছে।