সংবাদদাতা, বোলপুর: ফের বিতর্কে বীরভূমের ইলামবাজার টোল আদায় কেন্দ্র। অগ্রিম কোনো নোটিস ছাড়াই শনিবার থেকে ছোটো গাড়ির ক্ষেত্রে টোলের নতুন রেট কার্যকর হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। বাড়তি টাকা আদায়ের পাশাপাশি খুচরো ফেরত না দিয়ে সাবান, বিস্কুট সহ বিভিন্ন সামগ্রী ধরানোর অভিযোগও তুলছেন গাড়িচালকরা। আচমকাই টোলের টাকা বৃদ্ধি এবং নতুন রসিদে ইলামবাজার টোল প্লাজার নাম বাদ যাওয়ায় গোটা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গিয়েছে, ভোটের ফল প্রকাশের পর এই টোল আদায় কেন্দ্র কয়েকদিনের জন্য বন্ধ হয়। তখন অনেকেই মনে করেছিলেন, বিতর্কিত এই টোল ব্যবস্থা হয়তো তুলে দেওয়া হয়েছে। পরে ফের টোল চালু হয়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের পূর্ত দপ্তরের অনুমোদন রয়েছে। তবে এবার কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই টোলের রেট বাড়ানোয় ক্ষোভ ছড়ায় গাড়ি চালকদের মধ্যে। এদিন দেখা যায়, আগে যে প্রাপ্ত রসিদে অজয় ব্রিজ, ইলামবাজার টোল প্লাজা লেখা থাকত, নতুন রসিদে তার উল্লেখ নেই। সেখানে শুধু পশ্চিমবঙ্গ সরকার পূর্ত দপ্তরের টোল লেখা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দেশ মেনেও কাউন্টার নম্বরেরও কোনো উল্লেখ নেই। এই পরিবর্তন নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এমনকি ,ছোট গাড়ির ক্ষেত্রে আগে কুড়ি টাকা নেওয়া হত। এখন সেখানে চল্লিশ টাকা চাওয়া হচ্ছে এমনটাই অভিযোগ। সব গাড়ির ক্ষেত্রে ইএকই রেট বজায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় গাড়িচালক সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, হঠাৎ করেই টোলের টাকা বাড়ানো হল। আগে কোনো নোটিস দেওয়া হয়নি। খুচরো টাকা ফেরত চাইলে অনেক সময় সাবান, বিস্কুট ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। টোল নিলে নিয়ম মেনেই নিতে হবে। পাশাপাশি এই সাবান, বিস্কুট দেওয়া নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরবও হন এক গাড়ি চালক। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তৃণমূলের সময়কালেও এই টোল আায় ঘিরে ঘিরে একাধিক অভিযোগ ওঠে। নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টাকা আদায়, প্রতিবাদ করলে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও ছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর টোল কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর ফের চালু হওয়ায় তার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। এবার নতুন করে টোলের টাকা বৃদ্ধির ঘটনায় সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। এনিয়ে বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, বিজেপি সরকার কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না। হঠাৎ করে কীভাবে টোলের টাকা বাড়ানো হল আমরা খতিয়ে দেখছি। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো বেআইনি কাজ বরদাস্ত করা হবে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।