জম্মু ও কাশ্মীরে একমাত্র সক্রিয় জঙ্গি, পরিযায়ী শ্রমিকের হত্যাকারী কে এই লতিফ ভাট?
প্রতিদিন | ০৩ আগস্ট ২০২৬
গত ১০ দিনে জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) দুই জায়গায় জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। যার মধ্যে ২ জন পরিযায়ী শ্রমিক। কুলগামে এই শ্রমিকদের হত্যার ঘটনায় নাম উঠে এসেছে স্থানীয় জঙ্গি মহম্মদ লতিফ ভাটের। তদন্তকারীদের তরফে জানা যাচ্ছে, লাগাতার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে স্থানীয় জঙ্গিদের নিকেশ করা হলেও, উপত্যকায় একজন স্থানীয় জঙ্গি এখনও জীবিত। এ সেই লতিফ ভাট। যার খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে কাশ্মীর পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই অমরনাথ যাত্রার সময় এক হেড কনস্টেবলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এরপর দুই শ্রমিক খুন। গত ১০ দিনে এই দুটি ঘটনাতেই নাম উঠে এসেছে লতিফের। বর্তমানে উপত্যকায় একমাত্র জীবিত এই জঙ্গি সিআরপিএফ এবং পুলিশের হিটলিস্টে। দীর্ঘদিন ধরে তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, স্থানীয় জঙ্গি লতিফের পাশাপাশি ৪০ থেকে ৫০ জন বিদেশি বা পাকিস্তানি সন্ত্রাসী কাশ্মীরে লুকিয়ে আছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
৫ বছরে আগেও জম্মু ও কাশ্মীরে ৫০ থেকে ৬০ জন স্থানীয় জঙ্গির অস্তিত্বের কথা জানা যেন গোয়েন্দা রিপোর্টে। গত বছরের মে মাসে সেই সংখ্যাটা কমে দাঁড়ায় মাত্র ১৭তে। যার মধ্যে ১৪ জন কাশ্মীরের ও ৩ জন ছিল জম্মুর। পাশাপাশি ৬০ জন পাকিস্তানি জঙ্গি উপত্যকায় সক্রিয় ছিল বলে জানা যায়। তবে বর্তমানে সময়ে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে কার্যত মুছে গিয়েছে স্থানীয় জঙ্গি। এনআইএ এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কড়াকড়ির কারণে পাকিস্তানি জঙ্গিরা আর কাশ্মীরিদের ফাঁদে ফেলতে পারছে না, এবং ফলস্বরূপ তাদের নিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। মাত্র একজন এখনও জীবিত, সে এই লতিফ। আপাতত তার খোঁজেই কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে গোয়েন্দা বিভাগ। পাশাপাশি ৪০-৫০ জন পাক জঙ্গি এখনও সক্রিয় উপত্যকায়।
উল্লেখ্য, কুলগামের কেল্লাম গ্রামে শুক্রবার রাতে দুই পরিযায়ী শ্রমিককে লক্ষ্য করে গুলি চালায় জঙ্গিরা। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। নিহতের ভাই মনোজ বলেন, “সে কোথা থেকে এসেছে এবং তাঁর ধর্ম কী, এ সমস্ত ওকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। যখন দীপক জানায়, সে হিন্দু, তখনই তাঁকে গুলি করা হয়।” ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা দীপকের পাশাপাশি শনিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় আরও এক শ্রমিকের। এই হামলাতেই উঠে আসছে লতিফ ভাটের নাম। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ৮ জুলাই অনন্তনাগে সিআরপিএফ ও পুলিশের গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয়েছিল লস্কর জাকির আহমেদের। তবে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে সেবার পালিয়ে যেতে সক্ষক হয় এই লতিফ।