• ‘খারাপ কাজ করতেই পারে না’, নাতি জঙ্গি হামিমের ‘দোস্ত’ শুনে কেঁদে আকূল আদিত্যর দিদিমা
    প্রতিদিন | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের একটি পাঁচতলা বাড়ি। ওই বাড়ির তিনতলার বাসিন্দা আদিত্য। নিজে হাতে ছোট থেকে মানুষ করেছেন নাতিকে। সেই আদিত্যই নাকি জঙ্গি হামিম মণ্ডলের (Terrorist Hamim Mondal) সহযোগী। বেঙ্গল এসটিএফ (Bengal STF) নাতিকে গ্রেপ্তারের পরেও কঠোর বাস্তব মানতে পারছেন না আদিত্য সিংয়ের নাতি। কেঁদে আকূল আদিত্যর দিদিমা মীরা সিং।

    কলকাতার এক কলেজের বি কমের পড়ুয়া আদিত্য। ধৃত আদিত্যের দিদিমা মীরা সিংয়ের দাবি, তাঁর নাতি কোনও খারাপ কাজ করতে পারে না। কেন তাকে পুলিশ জঙ্গি বলে ধরল তা তিনি বুঝতে পারছেন না। মীরা আরও জানান, শনিবার রাতে ১৫-২০ জন পুলিশের দল তাদের বাড়ি ঘিরে ফেলে। রাত ১২টার সময় আদিত্যকে গ্রেপ্তার করে। ঘরে তল্লাশি চালিয়ে তার মোবাইল, ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করে। আদিত্যর প্রতিবেশী বিনোদ জয়সওয়াল বলেন, “অত্যন্ত ভদ্র পরিবার। গত ৩৫ থেকে ৪০ বছর ওই ফ্ল্যাটে আছে। ছেলেটি ভালো নয়, কোনওদিন বুঝতে পারিনি আমরা। তবে পাড়ায় খুব একটা ও মিশত না।” জঙ্গি সন্দেহে আদিত্যর গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পর সোমবার সকালে হাওড়া থানার পুলিশ আদিত্যর বাড়িতে যায়। পরিবারের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

    জানা গিয়েছে, ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আদিত্যর একটি গেমিং অ্যাপের সূত্রে আলাপ। খুব কম সময়ের মধ্য়ে বন্ধুত্ব গভীর হয়ে ওঠে। সেই সুযোগে জঙ্গি হামিম আদিত্যর মগজধোলাই করে বলেই সূত্রের খবর। মগজধোলাইয়ের পর তাকে অ্যাসাইনমেন্ট দেয় হামিম। পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের উপর নজরদারি চালানোর কাজ দেওয়া হয়। মন্ত্রী ও মন্ত্রীপুত্র সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য সে হামিম ও তার বান্ধবী অর্পিতাকে পাচার করত বলেই খবর। হামিম ও অর্পিতাকে জেরা করে আদিত্যর খোঁজ পাওয়া যায়। তাকে হাওড়ার বেলিলিয়াস রোডের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদিত্যকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হচ্ছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বর্ধমানের জিম থেকে জঙ্গি হামিম গ্রেপ্তার হয়। তার বান্ধবী অর্পিতাকে ঝাড়খণ্ডের সাহেবগঞ্জ থেকে পাকড়াও করে এসটিএফ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)