নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগের অভিযোগে এসটিএফের হাতে বর্ধমান থেকে গ্রেপ্তার হওয়া হামিম মণ্ডলের সূত্র মিলেছে হাওড়ার গোলাবাড়ি থানার পিলখানায়। তদন্তে উঠে এসেছে, পিলখানার ৭ নম্বর আলম মিস্ত্রি লেনের একটি ভাড়া নেওয়া কারখানায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার। স্থানীয় সূত্রের খবর, প্রায় দু’বছর আগে হামিমের বাবা মইনুদ্দিন মণ্ডল মাসিক ১১ হাজার টাকা ভাড়ায় দু’টি ঘর নিয়ে সেখানে গেঞ্জি ও টি-শার্টের ট্যাগ তৈরির কারখানা চালু করেন। কারখানায় এক মহিলা ও দু’জন পুরুষ সহ কয়েকজন কর্মী কাজ করতেন। হামিমও নিয়মিত বাবার কাজে সহযোগিতা করত।
বাড়ির মালিক মহম্মদ আলি বলেন, গত ন’মাস ধরে হামিমকে মাঝেমধ্যেই কারখানায় আসতে দেখা যেত। তবে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই তার যাতায়াত বন্ধ হয়ে যায়। দু’দিন আগে বর্ধমান থেকে এসটিএফের হাতে হামিমের গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই কারখানায় তালা ঝুলছে। বর্তমানে সেখানে কোনো কাজকর্ম হচ্ছে না। বাইরে থেকে তালাবন্ধ থাকলেও ভিতরে আলো ও ফ্যান চালু রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। গত দু’দিন ধরে কোনো কর্মীকেও সেখানে দেখা যায়নি।অন্যদিকে, পিলখানা ফার্স্ট বাই লেনের একটি ফ্ল্যাটে হামিমের পরিবার দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে ভাড়ায় থাকত বলে জানা গিয়েছে। বাড়ির মালিক, আইনজীবী আব্দুল রেজ্জাকের দাবি, ২০০২ সাল থেকে হামিম বাবা, মা, ভাই ও বোনকে নিয়ে ওই বাড়িতেই থাকত। হাওড়াতেই তার পড়াশোনা। প্রায় দু’মাস আগে শেষবার তাকে দেখা গিয়েছিল। তাঁর কথায়, হামিম ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। বাইরে থেকে সন্দেহজনক লোকজনের যাতায়াত চোখে পড়েনি। প্রতিবেশীরাও জানান, পাড়ায় খুব বেশি মেলামেশা করত না হামিম। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কারখানার পাশের কোনো অফিস থেকে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের কাছে তোলা চাওয়া ও তাঁর ছেলেকে অপহরণের হুমকি দিয়ে ফোন করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও সরকারিভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এসটিএফ কারখানার কার্যকলাপ, সেখানে কর্মরত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সম্ভাব্য সমস্ত যোগসূত্র খতিয়ে দেখছে। আলম মিস্ত্রি লেনের কারখানা।-নিজস্ব চিত্র