• পুলিশের আতশকাচের নীচে টুলু ঘনিষ্ঠ অফিসার, সরকারি কর্মীরা
    বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: পাথর সম্রাট টুলু মণ্ডলের বেআইনি কারবারে যেসব সরকারি অফিসার নানা সময়ে সাহায্য করেছেন তাঁরা এবার তদন্তকারীদের নজরে। তণমূল জমানায় এই অফিসাররা এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নির্দেশমতো কেষ্ট-ঘনিষ্ঠ এই ব্যবসায়ীকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এর মধ্যে বীরভূম জেলায় কাজ করে যাওয়া প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ পদাধিকারি রয়েছেন বলে খবর। যাঁরা রাজস্ব ফাঁকির বিষয়টি জেনেও নিশ্চুপ ছিলেন। এবার তাঁদের ভূমিকা আতশকাচের তলায়। উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নথি থেকে এই সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ তদন্তকারীরা পেয়েছেন। এমনকি টুলু যে ভুয়ো নথি তৈরি বাংলাদেশে পাথর পাচার করেছেন তার তথ্য এতদিনে সামনে এসেছে। 

    তদন্তে উঠে আসছে, টুলুর বেআইনি পাথর কারবারের রমরমা হয় ২০১৫ সাল থেকে। তাঁর মাথায় হাত ছিল পূর্বতন শাসক দলের একাধিক নেতার।  তাঁর পাথর ঢুকত হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, সল্টলেকসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায়। ডাম্পারগুলি দুটি রুটে চলত। একটি  মুর্শিদাবাদ, নদীয়া হয়ে উত্তর ২৪ পরগনায় আসত। আরেকটি রুট ছিল বর্ধমান ও হুগলির ভিতরে। উদ্ধার হওয়া নথি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, জাল নথি তৈরি করে শুধু রাজ্য সরকারের রাজস্বের ক্ষতি করেননি টুলু, একইসঙ্গে ভারত সরকারেরও বিপুল পরিমাণ আর্থিক লোকসান হয়েছে।  অভিযোগ, তাঁর বেয়াই বারিক বিশ্বাসের হাত ধরে এই পাথর অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশেও পাচার করা হয়েছে। সীমান্ত পার করার জন্য ব্যবহার করা হত জাল নথি। বাংলাদেশের বিভিন্ন পাথর ব্যবসায়ীর দেওয়া মালের অর্ডার মেসেজ ঘেঁটে তদন্তকারীরা এই খবর জেনেছেন। বাংলাদেশে পাথর বিক্রির টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পৌঁছাত বেয়াই মশাইয়ের কাছে। তিনি এই টাকা নিয়ে যেতেন বীরভূমে। যে-সমস্ত হুন্ডি ব্যবসায়ী এই  টাকা পৌঁছে দিতেন তাঁদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।   

    তদন্তে উঠে এসেছে, এই বেআইনি কারবার চালাতে টুলুকে সাহায্য করতেন সরকারি কর্মীদের একাংশ। তাঁরা নথি ইস্যু করতেন। টুলুর লোকজন খাদান থেকে পাথর নিয়ে বেরোনোর গেটে বসে মেশিন দিয়ে জাল নথি ইস্যু করছে, সেটি জানতেন তাঁরা। তারপরেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা জেনেছেন, বীরভূমে সেইসময় কাজ করা একাধিক প্রশাসনিক কর্তা টুলুর বেআইনি কারবারের বিষয়ে জানতেন। এই সমস্ত আধিকারিকদের সঙ্গে টুলু ওরফে নিজামউদ্দিনের নিয়মিত কথা হত বলে উঠে এসেছে তদন্তে। সরকারের ক্ষতি করে এই আধিকারিকরা টুলুকে বেআইনি ব্যবসায় সাহায্য করে গিয়েছেন দিনের পর দিন। কার নির্দেশে তাঁরা এই কাজ করেছেন, সেটি জানার চেষ্টা হচ্ছে। পাশাপাশি, যে-সমস্ত সরকারি আধিকারিকের ভূমিকা নিয়মমাফিক ছিল না, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেই খবর। একইসঙ্গে রবিবার মঙ্গলকোটে টুলুর ম্যানেজার ইফাজুলের বাড়িতে তল্লাশি চালায় জেলা পুলিশ। সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একাধিক ট্রাঙ্ক ও ট্রলি ব্যাগ।
  • Link to this news (বর্তমান)