• সবজির দাম লাগামছাড়া! ছুটির দিনে অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ
    বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: কালোবাজারি রুখতে সাতসকালে কলকাতা, সল্টলেকসহ সংলগ্ন শহরতলির বিভিন্ন বাজারে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (ইবি)। রবিবার কলকাতায় পাইকারি বাজার কোলে মার্কেট সহ বিভিন্ন বাজারে অভিযান হয়েছে। গত ১০-১৫ দিনে যেভাবে সবজির দাম লাগামছাড়া হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই পুলিশি অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বাজারেও হানা দিয়েছে প্রশাসন। এদিন সাতসকালে গড়িয়া বাজারে পৌঁছে যান ইবি অফিসাররা। ইবি, নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ, স্থানীয় বিধায়ক এবং পুরসভার প্রতিনিধিরা যৌথভাবে এই অভিযান চালান। সবজি, ফল, মুদি দোকান, মাংস, ফলের দাম খতিয়ে দেখেন তাঁরা। 

    সল্টলেকের সিকে, বিডি ব্লকের বাজারে অভিযান চলে। পাশাপাশি হাওড়ার বিভিন্ন বাজারেও হানা দেয় রেগুলেটেড মার্কেট কমিটি। পুলিশ প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে উলুবেড়িয়া নিমদিঘি বাজার, আমতা বাজার, চেঙ্গাইলের ল্যাডলো বাজার, কুলগাছিয়া বাজার, বাউড়িয়া ফোর্ট গ্লস্টার বাজারে হানা দেন তাঁরা। আমতায় এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়কও। অন্যদিকে, শ্রীরামপুরের মাহেশ বাজারেও চলে পুলিশি হানা।

    লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সবজির দাম। তা নিয়ন্ত্রণে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন বাজারে চলে হানা। গাইঘাটার খুচরো বাজার এবং চাঁদপাড়া দেবীপুরের কৃষক বাজারে অভিযান চলে। ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে দামবৃদ্ধির খোঁজখবর নেন তাঁরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্ষার কারণে ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং ফলন কম হওয়ায় প্রতিবছরই এইসময় সবজির দাম বাড়ে। কালোবাজারি বা মজুত করে দাম বাড়ানো হয় না। এই এলাকায় সবজি মজুত করার মতো হিমঘর নেই। ঠাকুরনগরে বাজারেও হানা চলে। গাইঘাটার বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর জানান, বাজারে দ্রব্যমূল্য কেন বাড়ছে, শাকসবজি থেকে মাছ মাংস গুণমগতমান ঠিক আছে কি না সেই বিষয়ে খোঁজখবর করা হয়েছে। আপাতত ঠাকুরনগর বাজারে তেমন বেনিয়ম নজরে আসেনি। অভিযোগ পেলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। বনগাঁ পুলিশের প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বাগদা থানার একাধিক বাজারে অভিযান চলে। বাগদার এসডিপিও রামকুমার মণ্ডল বাজার পরিদর্শন করেন। তিনি দোকানদারদের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ব্যাপারে সতর্ক করেন। 

    মছলন্দপুর বাজারেও ভিজিট চালায় গোবরডাঙা থানার পুলিশ এবং হাবড়া ১ নম্বর ব্লক প্রশাসন। মাছ, পোলট্রি মাংস ও মুদি দোকানে গিয়ে পাইকারি ও খুচরো দর তুলনা করে দেখেন আধিকারিকেরা। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম নেওয়া হলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে ব্যবসায়ীদের। সাধারণ ক্রেতারা প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। জেলা কৃষি বিপণন দপ্তর ও বারাসাত ২ ব্লক কৃষি বিপণন দফতরের উদ্যোগেও বিভিন্ন বাজার ভিজিট করা হয়। সঙ্গে ছিলেন শাসন থানার আইসির নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী। শাসনের খড়িবাড়ি, গোলাবাড়িসহ বেশকিছু মার্কেটে এই সারপ্রাইজ ভিজিট চলে। গোলাবাড়ির সবজি বিক্রেতা তুজাম আলি ও জসিমউদ্দিনদের বক্তব্য, আমরা পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে সবজি কিনছি। সামান্য লাভে আমরা বিক্রি করছি। অনেক সবজি নষ্ট হয়েছে, তাই দাম চড়া।

    এদিন বারুইপুর কাছারি বাজারে অভিযান চালায় ইবি এবং বারুইপুর থানার পুলিশ। বাজারে সবজি থেকে পেঁয়াজ, আলু দাম চড়া বলে অভিযোগ। বাজার দরের নির্দিষ্ট তালিকা টাঙানোর নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। একই অবস্থা বারুইপুরের পুরাতন বাজার এবং হাসপাতাল বাজারেও। অভিযান চলে রাজপুর বাজার, নামখানা, মথুরাপুর স্টেশন বাজারেও। শুধু মফস্‌সল এলাকার বাজারে নয়, সুন্দরবনের পাথরপ্রতিমার জি-প্লটের ইন্দ্রপুর বাজারেও অভিযান চালালেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানার পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা গ্রামের বাজার ঘুরে দেখেন। 
  • Link to this news (বর্তমান)