• তোলাবাজি! দিলীপের কাঠগড়ায় বিজেপিরই বিধায়করা
    বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দলের বর্তমান রাজ্য সভাপতির পর প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি! তোলাবাজি ইস্যুতে এবার সরব হলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শনিবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্বীকার করে নিয়েছিলেন, নতুন সরকারের বয়স তিন মাস হতে চললেও সব জায়গায় তোলাবাজি বন্ধ করা যায়নি। আর রবিবার দিলীপবাবু তোলবাজির অভিযোগে কাঠগড়ায় তুললেন বিজেপি বিধায়কদের একাংশকেই। এদিন দিলীপবাবু বলেন, ‘দুর্নীতিবাজরা আমাদের দলের নেতাদের কাছে আসার চেষ্টা করছে। আমাদের অনেক নেতা আছেন, যাঁরা এই মধুতে (তোলাবাজি) আসক্ত হয়ে পড়ছেন। কিছু নতুন বিধায়ক হয়েছেন, যাঁরা ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছেন। তোলাবাজরা মূলত তাঁদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। নতুন ক্ষমতা পেয়ে অনেকেই ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। তাঁদের কথাবার্তা পালটে যাচ্ছে।’ এরপরই বিধায়কদের ওই অংশকে দিলীপের হুঁশিয়ারি, ‘দল সবকিছুর উপর নজর রাখছে। ৬ মাস যেতে দিন, পার্টি সব হিসাব করবে। মানুষ কেন পরিবর্তন করেছে, তা আমরা যেন ভুলে না যাই। আমাদের প্রত্যেকের উচিত,  এসব লোকদের থেকে দূরে থাকা।’ পরপর দু’দিন দলের রাজ্যস্তরের দুই শীর্ষনেতার এই ‘আত্মসমালোচনা’ আদতে গেরুয়া শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কি না, চর্চা রাজনৈতিক মহলে। 

    সূত্রের দাবি, গত আড়াই মাসের বেশি সময় সল্টলেকে রাজ্য বিজেপির কার্যালয়ে দলের একাধিক বিধায়কের বিরুদ্ধে তোলাবাজিসহ নানা গুরুতর অভিযোগ এসেছে। পার্টির ভাবমূর্তির কথা ভেবে তা এতদিন প্রকাশ্যে আনা হয়নি। কিন্তু দিন দিন এই প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেই দাবি বিজেপি নেতাদের। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচিতেও দলীয় বিধায়কদের বিরুদ্ধে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ আসছে বলে খবর। বিষয়টি আগামী দিনে যাতে আয়ত্তের বাইরে না যায়, তার জন্য প্রশাসনিকভাবে পদক্ষেপ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শমীকবাবুর সঙ্গে আলোচনা করে তোলাবাজি-সিন্ডিকেটরাজসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা রুখতে নবান্নে টোল ফ্রি নম্বর ও বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছেন তিনি। সেখানেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শাসক দলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ভূরিভূরি অভিযোগ আসছে। তাই নেতৃত্ব সতর্ক করে দিচ্ছে দলের ওই অংশকে। বিজেপির রাজ্য কমিটির এক সদস্যের কথায়, ‘অভিযুক্ত বিজেপি বিধায়করা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন। সেখানে অভিযোগ খণ্ডন না করতে পারলে শৃঙ্খলাভঙ্গসহ দলীয় সংবিধান মেনে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুজোর আগেই তা করার চেষ্টা চলছে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)