• যোগাসনে আন্তর্জাতিক স্তরে ডাক পেলেন কাকদ্বীপের ছাত্রী, বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ
    বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৬
  • সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: দু-চোখে ভরা স্বপ্ন। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে সেই স্বপ্নই এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে বলে মনে হচ্ছে। ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই। আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার ডাক পেলেও, এখন তার বাস্তবায়ন বিশ বাঁও জলে। সেপ্টেম্বর মাসের পাঁচ তারিখে থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক যোগাসন প্রতিযোগিতায় ডাক পেয়েছেন কাকদ্বীপের শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ গ্রাম পঞ্চায়েতের আট নম্বর কালীনগর মাইতির চক এলাকার বাসিন্দা দিশা শূর। কিন্তু অভাবের সংসারে সেই ডাকে তিনি সাড়া দিতে পারছেন না। এখন তিনি তাকিয়ে সরকারি সাহায্যের দিকে।

    সম্প্রতি তিনি যোগাসনে জাতীয় স্তরে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। উত্তরাখণ্ডের রুরকিতে এই যোগাসন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে তিনি সিনিয়র ‘এ’ গ্রুপে ছিলেন। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দিশা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। এরপরই তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে সুযোগ পান। ইতিমধ্যেই সেই আমন্ত্রণপত্র তাঁর বাড়িতে এসে পৌঁছেছে।

    এবিষয়ে দিশার বাবা অমরচন্দ্র শূর বলেন, চার বছর বয়স থেকে দিশা যোগাসন শিখছে। বর্তমানে যোগাসন নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করছে। আগামী দিনে মাস্টার ডিগ্রি করতে চায়। এছাড়াও দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তাঁর প্রবল ইচ্ছা রয়েছে। কিন্তু আমি সামান্য সাইকেল সারানোর মিস্ত্রি। অভাবের সংসারে এই স্বপ্ন পূরণ করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন কীভাবে মেয়েকে সাহায্য করব, বুঝে উঠতে পারছি না।

    আর দিশা বলেন, দীর্ঘদিন লড়াইয়ের পর বিদেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু অর্থ এখন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানি না কীভাবে তা পূরণ হবে। ভবিষ্যতে ওলিমপিক-এ গিয়ে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে চাই। অর্থের অভাবে সেই স্বপ্নও পূরণ হবে কি না, জানি না। সরকারি সাহায্য পেলে তবেই সম্ভব হবে। কাকদ্বীপ নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে কৌশিক দাস বলেন, দিশা আমাদের গর্ব। বিষয়টি প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হবে, যাতে আগামী দিনে দিশা বিদেশে গিয়ে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন। ওঁকে সব রকমের সাহায্য করা 

    হবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)