নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর কলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমাধি মন্দিরের মাথা ছেয়ে গিয়েছে বট, অশ্বত্থ সহ বিভিন্ন জংলি গাছে। তার জেরে কিছু কিছু জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতি বছর কবিগুরুর জন্ম ও মৃত্যুদিনে এই সমাধি মন্দিরে বহু মানুষ এসে ফুল‑মালা দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তারপর সারা বছর অনাদারেই পড়ে থাকে এই সমাধি মন্দির। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, ‘নিয়মিত দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে সমাধি মন্দিরের মাথায় এভাবে আগাছা ও জংলি গাছ গজিয়ে উঠত না। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে ওই সমাধি মন্দির আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’
এই মহাশ্মশানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও দাহ করা হয়েছিল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখদের। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের স্মৃতিফলক শ্মশানে রক্ষিত আছে। তারমধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমাধি মন্দিরটি সকলের নজর কাড়ে। সমাধি মন্দিরের ভিতরে ও আশপাশে ছড়িয়ে‑ছিটিয়ে রয়েছে নোংরা‑আবর্জনা। চারদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে ভবঘুরের দল। সমাধি মন্দিরের পিছনে গিয়ে দেখা গেল, দুপুরের দিকে সেখানে কয়েকজন অঘোরে ঘুমাচ্ছেন। গঙ্গার আশপাশেও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে নোংরা‑আবর্জনা। কলকাতায় দ্রষ্টব্য স্থানগুলির মধ্যে নিমতলা মহাশ্মশান অবশ্যই একটি উল্লেখযোগ্য জায়গা। প্রতিদিন এখানে বহু মানুষ আসেন কবিগুরুর সমাধি মন্দির দর্শন করতে। এমনকি, দেশ-বিদেশের বহু পর্যটকও আসেন এখানে।
ওই চত্বরেই কথা হচ্ছিল কয়েকজনের সঙ্গে। তাঁদের বক্তব্য, এমন একটি ইতিহাস প্রসিদ্ধ স্থান অযত্নে পড়ে রয়েছে। সমাধি মন্দিরের মাথায় গজিয়ে ওঠা জংলি গাছ কি কাটা যায় না? হাওড়ার আমতার যুবক সজল সাঁতরা ওই চত্বরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন মোবাইলে।
কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের কাছে আবেগ। এখানে দেখভালের অভাব সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।’ এক সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকার সম্পাদিকা সুলতা সরকার খেদ প্রকাশ করে বলেন, ‘যে মহাশ্মশানে একাধিক বিখ্যাত মানুষকে দাহ করা হয়েছে, সেখানে এই সমাধি মন্দিরকে রক্ষা করা আমাদের সকলেরই কর্তব্য।’