হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে আদিত্য সিং ওরফে রাজ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করল পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারীদের দাবি, কিছুদিন আগেই গ্রেফতার হওয়া সন্দেহভাজন হামিম মণ্ডল ও তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারের সঙ্গে আদিত্যর সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র ধরেই গ্রেফতার হয়েছে বছর বাইশের আদিত্য সিং। কী অভিযোগ আদিত্যর বিরুদ্ধে? কী ভাবে আদিত্যর সঙ্গে হামিমের যোগাযোগ?
সূত্রের খবর, দু’মাস আগে হাওড়ার নামক গোলাঘাটে হামিম মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করেছিল আদিত্য সিং। তদন্তকারীদের সন্দেহ, উমেশ রাইকে নিয়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আদিত্যকে। STF সূত্রের খবর, উমেশ রাইয়ের স্করপিও গাড়ি, তাঁর বাড়ি এবং ছেলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছবি আদিত্যই শেহজাদ ভাট্টি গ্যাংয়ের কাছে পাঠিয়েছিল। এই ঘটনায় হামিম, আদিত্য, আবিদ এবং রানা এই চারজনের মধ্যে কথোপকথন ও যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা ঢুকল…? কী ভাবে ট্র্যাক করবেন আপনার ‘Application Status’, ৩ স্টেপে বুঝে নিন, টাকা না ঢুকলে কোথায় জানাবেন অভিযোগ?
STF সূত্রে খবর, অপারেশন সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে ওই গোষ্ঠী যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে ‘Session’ অ্যাপ ব্যবহার শুরু করে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। বর্তমানে ওই অ্যাপের মাধ্যমে হওয়া কথোপকথন ও যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
STF সূত্রে খবর, ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলের সঙ্গে একটি গেমিং অ্যাপের মাধ্যমে আলাপ হয়েছিল আদিত্যর। অল্প সময়ের মধ্যেই দু’জনের বন্ধুত্ব গভীর হয়। অভিযোগ, সেই সুযোগে আদিত্যকে মগজধোলাই করে হামিম। এরপর পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের উপর নজরদারি চালানোর অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয় তাকে। হামিম মণ্ডল ও অর্পিতাকে জেরা করেই আদিত্যর হদিস পান তদন্তকারীরা। মন্ত্রী পুত্রকে হানিট্র্যাপে ফাঁসিয়ে অপহরণের ছক ছিল জঙ্গিদের। স্বাধীনতা দিবসে কোনও বড়সড় নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছে STF।
আরও পড়ুন: সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ইনস্টা লাভার্স’! কোনও ‘বড় অপারেশনের’ রেইকি করতেই কি শহরে এসেছিল অর্পিতা-হামিম? STF-এর নজরে কলকাতা সফর
ঘটনার গভীরতা বিবেচনা করে তদন্তে যোগ দিয়েছে হাওড়া সিটি পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট (ডিডি) এবং গোয়েন্দা বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করেন। ধৃতের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে একটি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দাদের অনুমান, হামিমের কাছে বিভিন্ন নথি, ছবি ও ভিডিও ফুটেজ পৌঁছে দেওয়ার পিছনে আদিত্যর সক্রিয় ভূমিকা থাকতে পারে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি উত্তর হাওড়ার বিধায়ক তথা রাজ্যের নগর উন্নয়নমন্ত্রী উমেশ রাইকে প্রাণনাশের হুমকি এবং তাঁর ছেলেকে অপহরণের হুমকির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম আলোড়ন তৈরি হয়। সেই মামলার তদন্তেও নামানো হয়েছে এসটিএফ-কে। গোয়েন্দারা তদন্ত শুরু করেছে, মন্ত্রীকে হুমকির ঘটনার সঙ্গে আদিত্য ও হামিমের যোগাযোগের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বেলিলিয়াস রোডের মত ঘিঞ্জি এলাকায় এসটিএফের এই ঝটিকা অভিযান ও গ্রেফতারির পর পুরো অঞ্চলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তৈরি হয়েছে চাপা উদ্বেগ। অবশ্য তদন্তের স্বার্থে এসটিএফের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। আধিকারিকদের মতে, বাজেয়াপ্ত ডিজিটাল ডিভাইসগুলি পরীক্ষা করলে এবং ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই চক্রের বিষয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে।