দু’দিন আগেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আশঙ্কা করেছিলেন। ডিমথেরাপির উলটপূরাণ হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন তিনি। হাতেনাতে ফল মিলল সোমবার। বিজেপির দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়াল কোচবিহারের শীতলখুচিতে। এক গোষ্ঠীর ডিম বর্ষণের মুখে পড়লেন অন্য গোষ্ঠীর লোকজন।
সোমবার পঞ্চায়েত অফিসে তৃণমূলের প্রধান এবং সদস্যদের ঢোকানোর চেষ্টা করে দলের একটি অংশ বলে অভিযোগ।। সেই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক অশান্তি। উত্তেজনা ছড়াল ছোট শালবাড়ি এলাকায়। দলীয় কার্যালয়ে বিজেপি নেতৃত্বকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখালেন দলেরই একটি একাংশ। পরে তাঁদের পুলিশ উদ্ধার করতে আসলে ডিম ছোড়া হয়েছে।
দলীয় কার্যালয়ে বিজেপির ৫ নম্বর মণ্ডল সভাপতি পবিত্র অধিকারী, স্থানীয় বিজেপি নেতা মনা সরকার, পবিত্র বর্মন-সহ আরও কয়েকজনকে আটকে রাখা হয়। তাঁদের সামনেই তুমুল বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা। যদিও পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ে ডিম ছুড়ে মারেন উত্তেজিত কর্মীরা। বিজেপি কর্মীদের দাবি, পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে মিলে এই নেতারা তৃণমূলের লোকজনকে পুনরায় গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ঢোকানোর পরিকল্পনা করেছিল।
স্থানীয়দের দাবি, কোনওমতেই তাঁরা তৃণমূল প্রধানকে মেনে নেবেন না। পরে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন তাঁরা। উত্তেজিত কর্মীদের হাত থেকে মণ্ডল সভাপতি পবিত্র অধিকারীকে গাড়িতে তোলার সময়ে তাঁকে উদ্দেশ্য করে ডিম ছোড়ে বিজেপির আর একটি গোষ্ঠী । সেখান থেকে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়।
মণ্ডল সভাপতি পবিত্র অধিকারী বলেন, ‘দল এবং প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেই প্রধান যাতে কাজ শুরু করে, তার জন্য এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল। মানুষ যাতে পরিষেবা পায়, সেই বিষয়টি চালু করতেই এমনটা করা হয়েছে। যে সমস্ত অভিযোগ করা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন।’ যদিও বিজেপির শীতলখুচির বিধায়ক সাবিত্রী বর্মন বলেন, ‘এখানে বিজেপির কোনও গোষ্ঠীকোন্দলের বিষয় নেই। মানুষ তৃণমূলের উপরে ক্ষিপ্ত। তাই সেই রোষে এই ঘটনা ঘটেছে। বিজেপি চায় পঞ্চায়েত দপ্তরগুলো ঠিক ভাবে চলুক। মানুষ পরিষেবা পাক।’