প্রায় ৪৮ ঘণ্টা কেটে গিয়েছে। কলকাতার রবীন্দ্রসদনে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের ‘ফেরা’ অনুষ্ঠানে দর্শকাসন থেকে 'গো ব্যাক' স্লোগান ও বিক্ষোভের মুখে মঞ্চ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন কবি জয় গোস্বামী। জয়কে মঞ্চে ডেকে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি বাংলাদেশের লেখিকা। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ঠেকাতে পারেননি। জয়ের অপমানে ব্যথিত তসলিমা সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন জয়ের এই অপমান, তাঁরও। একইসঙ্গে কবির বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। সে ইচ্ছে পূর্ণ না হলেও এদিন সন্ধেয় জয়ের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ ফোনে কথা হয় লেখিকার।
এই সময় অনলাইন-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ‘ভুতুমভগবান’-এর লেখক জানালেন সেই কথোপকথনের কিছু অংশ। জয় জানিয়েছেন, তসলিমার কণ্ঠে উঠে এসেছে অনাকাঙ্ক্ষিত সেই রাতের কথা। কবির কথায়, ‘ওই ঘটনা নিয়ে তসলিমা ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন। এমন পরিস্থিতির মুখে আমাকে পড়তে হবে, তা বিন্দুমাত্র আঁচ করতে পারেননি লেখিকা। তবে আমি ওঁকে এ সব নিয়ে চিন্তা করতে বারণ করেছি। কারণ ওঁর মতো মানুষের এসব নিয়ে ভাবলে চলবে না।’
জয় গোস্বামীর বাড়িতে লেখিকা যাবেন, এ বিষয়ে অবগত ছিলেন কবি। তবে এ-ও জানতেন তাঁর সশরীরে তসলিমা দেখা করতে এলে বিড়ম্বনা বাড়ত বই কমত না। প্রায় বিশ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে বাংলাদেশের লেখিকা কলকাতায় পা রেখেছেন ঠিকই। তবে তাঁর জীবন এখনও পুরোপুরি ভয়মুক্ত নয়। তাই প্রতি পদে নিরাপত্তার বলয়ে মুড়ে রাখা হয়েছে লেখিকাকে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তসলিমার নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন। জয়ের কথায়, ‘হয়তো নিরাপত্তার বেড়াজাল ডিঙিয়ে এ পর্যন্ত আসা সম্ভবপর ছিল না। তা ছাড়া আমার বাড়ির সামনেও তো সারাক্ষণ সাংবাদিকরা ঘোরাফেরা করছেন। ফলে ওঁ এখানে এলে সমস্যা হতে পারত।
সামনাসামনি দেখা না হলেও পুলিশি পাহারায় কফিহাউসে বসে তসলিমার কফি খাওয়ার ছবি দেখেছেন জয়। একই শহরে বসে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে ৪০ বছরের চেনা একটি মানুষের কণ্ঠ শুনে কী অনুভব করেছেন ‘ভুতুমভগবান’-এর লেখক? ‘প্রায় মিনিট তিরিশ কথা হয়েছে। বেশিরভাগই আমাদের পুরোনো দিনের। তবে একটা জিনিস আমাকে খুব চিন্তায় ফেলেছে। ফোনের ওপার থেকে মনে হলো ও খুব অবসন্ন। ওঁর এমন গলা আমি আগে কখনও শুনিনি।’