সরকার গড়ে নতুন সদস্যপদ নিয়ে কী স্ট্র্যাটেজি BJP'র?
আজকাল | ০৪ আগস্ট ২০২৬
বিউ সরকার: বঙ্গে ভোট জিতেছে বিজেপি। গড়েছে সরকার। আর ঠিক তারপর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে বিজেপিতে যোগদানের জল্পনা জোরদার হয়েছে। তবে সেই জল্পনার মাঝেই দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপাতত নতুন করে কাউকে সদস্যপদ দেওয়া হবে না এবং অন্য দল থেকে আসতে চাইলেও এখনই দলে নেওয়ার প্রশ্ন নেই।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই জানিয়েছেন, নতুন সদস্যপদ গ্রহণের প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ থাকবে। একই বার্তা দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক সুনীল বানশালও। বিজেপি সূত্রে খবর, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত রাজ্যের কোনও স্তরে—মোর্চা, বিভাগ বা সাংগঠনিক ইউনিট—কোথাও নতুন সদস্যপদ দেওয়া হবে না। এমনকী পুরনো সদস্যদের পুনর্নবীকরণের কাজও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, 'ভারতীয় জনতা পার্টিতে সদস্যপদ গ্রহণের একটি নির্দিষ্ট সাংগঠনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সময়ে সময়ে সেই প্রক্রিয়া ঘোষণা করে। ৪ মে সরকার গঠনের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে কোনও সদস্যপদ দেওয়া হচ্ছে না। যাঁরা এই সময়ের মধ্যে নিজেদের বিজেপির সদস্য বলে দাবি করছেন, তাঁদের সেই দাবি দল স্বীকৃতি দিচ্ছে না। বর্তমানে কেবল আগের বৈধ সদস্যরাই দলের সদস্য হিসেবে গণ্য হচ্ছেন।'
দেবজিৎ সরকারের কথায়, 'ভবিষ্যতে সদস্যপদ প্রক্রিয়া শুরুর আগে বিভিন্ন জেলায় গঠিত কমিটি পুরনো সদস্যদের তালিকা, পুনর্নবীকরণ এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিজেপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, সমাজের বিভিন্ন স্তরে কাজ করা একটি বৃহৎ সাংগঠনিক পরিসর। অনেকেই দলকে সমর্থন করতে পারেন, কিন্তু শুধুমাত্র সমর্থন করলেই তাঁকে দলের সদস্য বলা যায় না। সদস্যপদ পেতে হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নাম নথিভুক্ত হতে হবে এবং সেই প্রক্রিয়াই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।'
এদিকে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের নেতা-কর্মীরা বিজেপিতে যোগ দিতে আগ্রহী—এমন জল্পনা রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে। তবে সেই সম্ভাবনায় কার্যত জল ঢেলে দিয়েছে রাজ্য নেতৃত্ব। শমীক ভট্টাচার্যের স্পষ্ট বার্তা, দলবদলের রাজনীতি উৎসাহিত করা হবে না। তৃণমূল বা অন্য কোনও দল থেকে কেউ যোগ দিতে চাইলেও আপাতত তাঁকে দলে নেওয়া হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা এবং সাংগঠনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে বিজেপির দাবি।
উল্লেখ্য, আগে মিসডকল-এর মাধ্যমে সদস্য পদ গ্রহণ করা হত। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই সেই পদ্ধতিতে বন্ধ রাখা হয়েছে বলেই জানিয়েছেন দেবজিৎ সরকার।