• টুলু মণ্ডলের যোগ এবার মুর্শিদাবাদে! ম্যানেজার গ্রেফতার হতেই হতবাক সালার
    News18 বাংলা | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • টুলু মণ্ডল মামলার তদন্তে ফের বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। সামনে এসেছে টুলু মণ্ডলের ম্যানেজারের মুর্শিদাবাদ যোগ । এবার গ্রেফতার করা হয়েছে টুলু মণ্ডলের ক্রাশারের এক কর্মী সীতেশ প্রামাণিককে। রবিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে সীতেশ প্রামাণিককে গ্রেফতার করে বীরভূম জেলা পুলিশ। সোমবার তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

    জানা গিয়েছে, তিনি মুর্শিদাবাদের সালার থানার এড়েরা গ্রামের বাসিন্দা। পুলিসের জালে টুলু মণ্ডলের আরও এক ম্যানেজার সীতেশ প্রামাণিক। এর আগেও টুলু মন্ডল ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মুর্শিদাবাদ জেলার সালারের বাসিন্দা সীতেশ প্রামাণিক। পুলিশের রাডারে টুলু মণ্ডলের ম্যনেজার মহম্মদবাজার খোদা বক্স। তার বাড়িতে যায় পুলিশ। কোম্পানির নথি সংগ্রহের জন্যে অভিযান বলে দাবি করেছিল পুলিশ।

    অন্যদিকে, বীরভূমের পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডল ওরফে মহম্মদ নিজামউদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তে আরও বড় সাফল্য পায় পুলিশ। শনিবার তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে আরও ৪২.৫ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এর ফলে এখনও পর্যন্ত মোট ১৩৫.৫ কোটি টাকা (প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা) বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফ্রিজ করা হয়েছে।

    সীতেশ প্রামাণিকের দাবি, তিনি গত প্রায় ১২ বছর ধরে বীরভূমের পাচামি এলাকায় টুলু মণ্ডলের ক্রাশারের সাপ্লাই অফিসে কাজ করছেন। তবে কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেছেন। এদিকে গ্রেফতারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই এড়েরা গ্রামে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। প্রতিবেশী ছায়া দাস বলেন, “সীতেশ ভাল ছেলে। কেন ওকে ধরল, বলতে পারছি না।” তিনি আরও জানান, সীতেশের বাবাও দীর্ঘদিন পাথর কাটার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    সূত্রের খবর, প্রায় ৪০০ বিঘার কাছাকাছি জমির তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। এছাড়াও, এখনও পর্যন্ত প্রায় ২২০ কোটি টাকার সম্পত্তি ফ্রিজ করা হয়েছে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট মহলে জানা গিয়েছে। যদিও এই তথ্যের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ ইতিমধ্যেই টুলু মণ্ডলের একাধিক আত্মীয় ও পরিচিতদের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছে। সেই তদন্তের মধ্যেই ক্রাশারের এক কর্মীর গ্রেপ্তার নতুন করে এই মামলার গুরুত্ব বাড়িয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    একটি মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেওয়ার পর বাড়িতে থাকেন  সীতেশের স্ত্রী৷ সীতেশ নিজে বেশিরভাগ সময়টা বীরভূমের সিউড়িতে। তবে পাড়া-প্রতিবেশী দের জিজ্ঞাসা করতেই সীতেশ প্রামাণিকের গ্রেফতারিতে কিছুই কেউ বলতে পারছে না এলাকার বাসিন্দারা।

    যদিও প্রতিবেশীদের দাবি, সীতেশ প্রামাণিকের বাবা সেখানে চাকরি করতেন৷ তাঁর মৃত্যুর পর থেকে সীতেশ এবং তাঁর দুই ভাইও ওই একই কাজ করতেন। তিন ভাইয়ের নামে কখনও কোনও অভিযোগ কানে আসেনি। তাঁরা মানুষ হিসাবেও ভাল। যদিও বীরভূম জেলা পুলিশের এই গ্রেফতারি পরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে বীরভূমের পাথর সম্রাট টুলু মণ্ডলের এই ম্যানেজারকে ঘিরে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)