• সিকিমে ফের প্রকৃতির তাণ্ডব! ধসে স্তব্ধ একাধিক সড়ক, NH-10 বন্ধে ভোগান্তিতে পর্যটক-স্থানীয়রা
    News18 বাংলা | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • টানা বর্ষণে ফের প্রকৃতির রুদ্ররূপ দেখল সিকিম। রবিবার গভীর রাতের প্রবল বৃষ্টির পর সোমবার সকালেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক ধস নেমে সড়ক যোগাযোগে বড়সড় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে NH-10-এর বারদাংয়ের ২০তম মাইল এলাকায়, যেখানে ধসের জেরে জাতীয় সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পাহাড়মুখী যাত্রী, পর্যটক এবং নিত্যযাত্রীদের চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়েছে।

    শুধু জাতীয় সড়কই নয়, গ্যালশিং–জোরেথাং সড়কের ৪র্থ মাইল এলাকাতেও বড় ধস নেমে রাস্তার একাংশ ভেসে যায়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাতেও যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় রাস্তা পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। সিকিম পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ রোড রিপোর্ট অনুযায়ী, ধসের কারণে প্যাকিয়ং, মঙ্গন, গ্যালশিং, নামচি ও সোরেং জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ রয়েছে।

    প্যাকিয়ংয়ে মাচং–লসিং ও মাচং–বারাপাথিং, মাঙ্গানে টুং নাগা নিউ রোড ও চুংথাং–লাচেন, নামচিতে রাভাংলা–ইয়াংগাং ও ফংলা–বারমিক, গ্যালশিংয়ে সোপাখা–চিওয়াভাঞ্জাং, গ্যালশিং–লেগশিপ ও বারমিক–লেগশিপ রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সোরেং জেলার থারপু ও মালবেসে হয়ে জোরেথাং যাওয়ার দুটি রাস্তাও সেতু সংস্কারের কারণে আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

    তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। রংপো–শিলিগুড়ি NH-10 আপাতত স্বাভাবিক রয়েছে এবং বারদাং অংশ এড়িয়ে সাওয়ানে–চেওরিবোটে–ডুগা বিকল্প রুট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে মেল্লি সেতুতে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিশেষ ট্রাফিক নিয়ম কার্যকর থাকবে। নির্দিষ্ট সময়ে শুধুমাত্র হালকা যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে পাহাড়ে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সেই কারণে নতুন করে ধস নামার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় যাত্রা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রার আগে সর্বশেষ রোড আপডেট দেখে তবেই রওনা হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধস সরিয়ে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট দফতর এবং উদ্ধারকারী দল নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়েছে। তবে আবহাওয়ার উন্নতি না হলে সিকিমের পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)