১৯ বছর পর চা-পকোড়ায় কফি হাউসে আড্ডা, বইমেলা নিয়ে আবেগী তসলিমা
প্রতিদিন | ০৪ আগস্ট ২০২৬
সাল ২০০৭, বই বিতর্কে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘ উনিশ বছর পর সেই শহর কলকাতাতেই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকার। তিলোত্তমায় পা রেখেই আবেগে ভেসেছেন তসলিমা। সপ্তাহের প্রথম ব্যস্ততম দিন সোমবার ঐতিহ্যবাহী ‘কফি হাউস’-এ পা রেখেই নস্ট্যালজিক সাহিত্যিক। উনিশ বছর পর কফি হাউসের সেই আড্ডায় মজলেন। বাঙালি আর কফি হাউজের আবেগ পরস্পরের সমার্থক!
বহু নতুন গান, সাহিত্যচর্চার সাক্ষী থেকেছে এই কফি হাউস। এদিন তসলিমা আসতেই মুহূর্তে বদলে গেল সেখানের পরিবেশ। কংক্রিকেট চার দেওয়ালের ভিতর যেন হল নতুন প্রাণসঞ্চার। তৈরি হয়েছিল এক অন্য আমেজ! জীবনানন্দ দাশের কবিতা ধার করে বললে, তসলিমার প্রতিশ্রুতি, ‘আবার আসিব ফিরে’। প্রিয় লেখিকাকে কাছে কফি হাউসের ভিতরে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ ব্লাবের ঝলকানি।
কফি হাউস থেকে বেরিয়ে উচ্ছ্বসিত তসলিমা বললেন, “এতদিন পর কফি হাউজে এলাম, দারুণ লাগল। সুন্দর সময় কাটালাম। আমি আবার আসব। ব্ল্যাক কফি, পকোড়া, ফিস ফিঙ্গার খেলাম। কফি হাউসে যখন এসেছি তখন কফিই খাব।” বিদায়বেলায় নিজের হাতে কফি হাউসের দেওয়ালে লিখে গেলেন, ‘কফি হাউসের আড্ডাটা আজ আবার হল উনিশ বছর পর। আরও আড্ডা হবে।’
এবার আসা যাক কলকাতা বইমেলার কথায়। আগামী বছর কলকাতা বইমেলায় থাকছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন, “আমি আগামী বছর বইমেলায় থাকছি। যে বইয়ের জন্য কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল সেই কলকাতাতেই আমার বই প্রকাশিত হবে। আত্মজীবনী সমগ্র ১ বেরিয়েছে। এরপর আরও অনেক ভাগ বেরবে।”
আবেগে ভেসে উচ্ছ্বসিত তসলিমার সংযোজন, “বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি আর নারীর টান আজও আমার হৃদয়ে অমলিন। মনে হচ্ছে জীবন ফিরে পেলাম। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি নিয়ে বাঁচতে চাই। এখানে এসে মনে হচ্ছে আমি নিজের দেশেই আছি। আরও অনেক বই প্রকাশিত হবে। নতুন কবিতা, গল্পের বই বেরবে। আবার সেই আগের মতো বইমেলার স্টলে বসব। পাঠকদের সঙ্গে কথা বলব।”