প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে আটক হওয়া পড়ুয়াদের উপরে থেকে সমস্ত মামলা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। রাজি হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারও। কিন্তু এখনও বিভিন্ন রাজ্যে ধরপাকড় চলছে বলে অভিযোগ। মামলা প্রত্যাহারও হয়নি। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এ দিনের ব্যাখ্যা মনে করিয়ে দিয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিকে প্রতিশ্রুতি রক্ষার আহ্বান জানালেন CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস। তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে এফআইআর তুলে নিন। প্রতিশ্রুতি পালন করুন।’
গুরুতর বা জঘন্য অপরাধের কোনও রেকর্ড নেই, এমন ছাত্রছাত্রীদের উপর থেকে মামলা তুলে নেওয়া যেতে পারে বলে গত ২৮ জুলাই পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে মামলার শুনানিতে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু তার পরেও এফআইআর প্রত্যাহার নিয়ে গড়িমসি চলছিল বলে অভিযোগ। ‘ক্রিমিনাল অ্যান্টিসিডেন্টস’ মন্তব্য নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিও ছিল। এ দিন সেই মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ গোটা বিষয়টা স্পষ্ট করে দেয়। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, নির্দেশে ব্যবহৃত ‘ক্রিমিনাল অ্যান্টিসিডেন্টস’ বলতে শুধুমাত্র গুরুতর ও জঘন্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদেরই বোঝানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই ব্যাখ্যা মনে করিয়ে দিয়ে সৌরভ জানান, শীর্ষ আদালতের আগের নির্দেশে যে বিভ্রান্তি ছিল, তা দূর করেছে। এখন কেন্দ্র এবং বিজেপি-এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলির উচিত ২৫ জুলাই ছাত্রদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা। তাঁর কথায়, ‘সুপ্রিম কোর্ট গোটা বিষয়টা স্পষ্ট করে দিয়েছে। এখন আমরা আশা করব, কেন্দ্র এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যের সরকার প্রতিশ্রুতি পালন করবে।’
আন্দোলনের শুরু থেকেই সিজেপি ছাত্রদের পাশে রয়েছে বলেও এ দিন দাবি করেন সৌরভ। ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের আইনি সহায়তা, চিকিৎসা-সহ বিভিন্ন ধরনের সাহায্য দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। সৌরভ বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাঁরা আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তা করছেন, সেই সব আইনজীবীকেও আমরা ধন্যবাদ জানাই।’ তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানিয়েছেন সৌরভ। তাঁর কথায়, ‘সরকারের দেওয়া আশ্বাস যেন অক্ষরে অক্ষরে কার্যকর হয়।’
এ দিকে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে সরগরম জাতীয় রাজনীতি। এই নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিজিৎ নিজেই। এ দিন X-এ তিনি লিখেছেন, ‘আমি স্কলারশিপের চিঠি, এডুকেশন লোনের সমস্ত নথিপত্র প্রকাশ করতে প্রস্তুত। সম্রাট কি তাঁর ডিগ্রি দেখাবেন?’ এই মন্তব্যে তিনি পরোক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই নিশানা করেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
১. সৌরভ দাস কী দাবি করেছেন?
তিনি বলেছেন, প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের প্রতিবাদে আটক পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার করে সরকার যেন দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে।
২. সুপ্রিম কোর্ট কী ব্যাখ্যা দিয়েছে?
আদালত জানিয়েছে, আগের নির্দেশে ব্যবহৃত ‘ক্রিমিনাল অ্যান্টিসিডেন্টস’ বলতে শুধুমাত্র গুরুতর ও জঘন্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে।
৩. CJP-র অভিযোগ কী?
দলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার আশ্বাস দিলেও এখনও বিভিন্ন বিজেপি-শাসিত রাজ্যে ছাত্রদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় চলছে এবং মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি।
৪. আন্দোলনকারীদের জন্য CJP কী করেছে বলে দাবি করেছে?
দলের দাবি, আন্দোলনের শুরু থেকেই তারা ছাত্রদের আইনি সহায়তা, চিকিৎসা-সহ নানা ধরনের সহযোগিতা করেছে।
৫. অভিজিৎ দীপক কী বলেছেন?
তিনি জানিয়েছেন, নিজের স্কলারশিপ ও শিক্ষা ঋণের সমস্ত নথি প্রকাশ করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি পরোক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উদ্দেশ্য করে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি প্রকাশের প্রশ্নও তুলেছেন।