বিহারের বাঁকিপুর ছিল বিজেপির গড়। সেই ১৯৯৪ থেকে। লালু-নীতিশ কেউই পদ্ম ফোটা আটকাতে পারেননি। কিন্তু সংসদীয় রাজনীতিতে পা রেখেই অসাধ্য সাধন করেছেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমারকে প্রায় ২০ হাজার ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি। স্বামীর জয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশান্তর স্ত্রী ডা. জাহ্নবী দাস বলে দিলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল, বাঁকিপুরের মানুষ পরিবর্তন চাইছেন।’ অবশ্য প্রশান্তর পথে হেঁটে রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনও ইচ্ছা তাঁর নেই বলেও জানিয়েছেন জাহ্নবী।
প্রশান্তর জয়ের পরে একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জাহ্নবী বলেন, ‘আমরা সবাই খুব খুশি। মা কামাখ্যার আশীর্বাদ, বাঁকিপুরবাসী, গোটা বিহারের মানুষ এবং জন সুরাজ দলের প্রতিটি সদস্যকে এই বড় জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানাই।’ ভোটে স্বামীর জয় নিয়ে যে তিনি আশাবাদী ছিলেন, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। জাহ্নবীর কথায়, ‘আমার মনে হয়েছিল, বাঁকিপুরের মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। তাই ওর জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী ছিলাম।’
প্রশান্তর জয় বিহারের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলে মনে করেছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। তবে এই নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চাননি জাহ্নবী। বরং প্রশান্তর পরিশ্রমের কথা বলছেন তিনি। জাহ্নবীর কথায়, ‘২০২৫ থেকেই ও খুব পরিশ্রম করছে। আমার মনে হয়, এ বার শেষ পর্যন্ত বিহারের মানুষ ওকে গ্রহণ করেছেন। এর জন্য আমি সত্যিই আনন্দিত।’
প্রশান্ত কিশোরের উত্থান-পতনের সঙ্গী তিনি। তবে স্বামীর পথে হেঁটে রাজনীতিতে আশার কোনও ইচ্ছা নেই জাহ্নবীর। তাঁর কথায়, ‘রাজনৈতিক বিষয় থেকে আমি বরাবর দূরেই থাকি। এই কাজের জন্য ওর একটা ভালো দল রয়েছে। ওকে আমি সমর্থন করি, ভবিষ্যতেও করব।’ উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাঁকিপুর কেন্দ্রে প্রশান্ত কিশোর ৬৪,১৫১ ভোট পেয়েছেন। বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার পেয়েছেন ৪৪,৮২৭ ভোট। তৃতীয় স্থানে থাকা আরজেডি প্রার্থী রেখা কুমারীর ঝুলিতে গিয়েছে ১৪,২৭৩ ভোট।
জয়ের পরে বাঁকিপুরকে বদলে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রশান্ত কুমার। সংবাদ মাধ্যমে তিনি বলেন, ‘উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখতে পাবেন। আমাকে শুধু তিন মাস সময় দিন।’ এ বার তাঁর লক্ষ্য যে বিহার, তা-ও ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। সরাসরি বলেছেন, ‘আমার জন্য শুধু বাঁকিপুর নয়, গোটা বিহারের দরজা খোলা।’ নিজের জয়কে তিনি অসাধারণ বলতে নারাজ। তবে বিজেপির গড় ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ায় প্রচ্ছন্ন গর্ব যে তাঁর রয়েছে, সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ‘অসাধারণ কিছু করিনি। শুধু ৩০ দিনে, ৩০ বছরের গড় ভেঙে দিয়েছি।’
১. বাঁকিপুরে কত ভোটে জিতেছেন প্রশান্ত কিশোর?
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমারকে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
২. প্রশান্ত কিশোরের জয়ে তাঁর স্ত্রী জাহ্নবী দাস কী বলেছেন?
তিনি বলেছেন, তাঁর আগেই মনে হয়েছিল বাঁকিপুরের মানুষ পরিবর্তন চাইছেন। তাই স্বামীর জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী ছিলেন।
৩. জাহ্নবী দাস কি রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন?
না। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি রাজনীতি থেকে দূরেই থাকতে চান এবং ব্যক্তিগতভাবে স্বামীকে সমর্থন করলেও রাজনৈতিক ভূমিকায় আসার ইচ্ছা তাঁর নেই।
৪. প্রশান্ত কিশোরের জয়কে কীভাবে দেখছেন জাহ্নবী?
তাঁর মতে, ২০২৫ সাল থেকে প্রশান্ত কিশোর যে ধারাবাহিক পরিশ্রম করে চলেছেন, এই জয় তারই ফল। তিনি মনে করেন, বিহারের মানুষ এবার তাঁকে গ্রহণ করেছেন।
৫. বাঁকিপুরে অন্য প্রার্থীরা কত ভোট পেয়েছেন?
বিজেপির নীরজ কুমার পেয়েছেন ৪৪,৮২৭ ভোট এবং আরজেডির রেখা কুমারী পেয়েছেন ১৪,২৭৩ ভোট।
৬. জয়ের পর বাঁকিপুরবাসীকে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর?
তিনি বলেছেন, তিন মাসের মধ্যে বাঁকিপুরে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যাবে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, শুধু বাঁকিপুর নয়, গোটা বিহারের মানুষের জন্য তাঁর দরজা খোলা।