• মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইন-অ্যাকশন, জমা পড়ল ৫০০ অভিযোগ!
    আজকাল | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • দীক্ষা ভুঁইয়া: গত সাত দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের চালু করা চারটি টোল-ফ্রি হেল্পলাইনে প্রাপ্ত প্রাসঙ্গিক অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে বেআইনি চোলাই মদের কারখানা ও ডিস্টিলারির বিরুদ্ধে। প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, এই সংক্রান্ত ২২০টিরও বেশি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কাটমানি সংক্রান্ত অভিযোগ, যার সংখ্যা প্রায় ১৪০।

    যদিও গত সাত দিনে চারটি হেল্পলাইনে মোট সাত হাজারেরও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রশাসনের দাবি, প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রায় সাড়ে ৫০০টি অভিযোগকেই তদন্তযোগ্য ও প্রাসঙ্গিক বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলিকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

    ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুর্নীতি, কাটমানি, সিন্ডিকেটরাজ এবং বেআইনি চোলাই মদের কারবারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিশেষ করে বারুইপুরে নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের ঘটনার পর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এলাকায় বেআইনি মদের ঠেক ও নেশার আড্ডা উচ্ছেদের আবেদন জানানো হয়েছিল। এরপর থেকেই বেআইনি মদের কারবারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয় রাজ্য সরকার।

    সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হিসেবে গত মঙ্গলবার নবান্ন ও ভবানী ভবনে দুটি পৃথক কন্ট্রোল রুমের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে চালু করা হয় চারটি পৃথক টোল-ফ্রি হেল্পলাইন, যার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারছেন।

    সরকারি ব্যবস্থায় ১৫৫৩৩৪ নম্বরে কাটমানি, ১৫৫৩৩৫ নম্বরে সিন্ডিকেট অপরাধ, ১৫৫৩৩৭ নম্বরে বেআইনি রাস্তা কর বা টোল আদায় এবং ১৫৫৩৩৯ নম্বরে বেআইনি চোলাই মদের কারখানা বা ডিস্টিলারি সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।

    প্রশাসনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তদন্তযোগ্য অভিযোগের মধ্যে সিন্ডিকেট অপরাধ সংক্রান্ত প্রায় ১০০টি এবং বেআইনি রাস্তা কর বা টোল আদায় সংক্রান্ত প্রায় ৪০টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। বাকি অভিযোগগুলি অন্যান্য প্রশাসনিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে অথবা এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

    প্রশাসনের দাবি, হেল্পলাইনে প্রাপ্ত প্রতিটি অভিযোগ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রাথমিক সত্যতা মিললেই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট দফতরকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
  • Link to this news (আজকাল)