ছাত্রছাত্রীদের জন্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বানানো সেলফি ভিডিয়ো আচমকাই উধাও গিয়েছিল ফেসবুক থেকে। সেই নিয়ে ব্যাপক শোরগোল হয়। মেটার প্রতিনিধিরাও এর জন্য ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত বলে জানায়। কিন্তু এতে সন্তুষ্ট নন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পরে তিনি বলেন, ‘এর জন্য মার্ক জুকারবার্গকে ক্ষমা চাইতে হবে।’ মেটা প্রধানের বিরুদ্ধে দেশকে অস্থির করার চেষ্টার অভিযোগও করেছেন তিনি।
এ দিন মেটা, স্ন্যাপচ্যাট, গুগল, এক্স এবং ইউটিউবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় কমিটি। বৈঠকে মেটার কাছে জানতে চাওয়া হয়, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিয়ো সরিয়ে ফেলার দায় কার? সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে কেন শিশু যৌন নিপীড়নমূলক বিষয়বস্তু রয়েছে, সেই প্রসঙ্গ নিয়েও আলোচনা হয়। পরে সাংবাদিকদের নিশিকান্ত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ভিডিয়ো পাঁচ ঘণ্টা সরিয়ে রাখা গুরুতর অপরাধ।’ এমন ঘটনায় মেটার ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়, বলে দাবি করেন তিনি।
গত বছরের (২০২৫) জানুয়ারিতে জুকারবার্গ দাবি করেছিলেন, কোভিডের পরে বিভিন্ন দেশের দেওয়া সরকারি তথ্যের উপরে মানুষ আস্থা হারিয়েছে। তাঁর আরও দাবি ছিল, সেই কারণেই ২০২৪-এ যে সব দেশে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে অনেক ক্ষমতাসীন সরকারই ভোটে ধাক্কা খেয়েছে। এই প্রসঙ্গে ভারতের নামও নিয়েছিলেন তিনি। সেই নিয়ে বিপুল শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ক্ষমাও চেয়েছিল মেটা। এ দিন সেই প্রসঙ্গও টেনে নিশিকান্ত বলেন, ‘জুকারবার্গ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন।’
নিশিকান্ত জানিয়ে দেন, জুকারবার্গকেই ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বলেন, ‘জুকারবার্গ ক্ষমা না চাইলে মেটার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় যে আইনি সুরক্ষা (Safe Harbour Protection) রয়েছে, তা তুলে নেওয়া উচিত।’ উল্লেখ্য, তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৭৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কোনও ব্যবহারকারী বেআইনি বা আপত্তিকর কিছু পোস্ট করলে, শুধুমাত্র সেই পোস্টের জন্য প্ল্যাটফর্মকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়ী করা যায় না। এই আইনি সুরক্ষাকেই বলা হয় ‘সেফ হারবার’। ফলে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের বিতর্কিত বা বেআইনি কনটেন্টের জন্য মেটাকেও সরাসরি আইনি জবাবদিহি করতে হতে পারে।
মেটার অ্যালগরিদম নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দলগুলির কনটেন্টের ভিউয়ারশিপ প্রায় ২.৩ কোটি হলেও, কোনও রাজনৈতিক দল বা নথিভুক্ত সংগঠন নয়— এমন সংস্থাগুলির ভিউয়ারশিপ প্রায় ২.৭ কোটি। তিনি বলেন, ‘বিজেপি, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টির মতো দলগুলির মোট ভিউয়ারশিপ ২.৩ থেকে ২.৪ কোটির মধ্যে। কিন্তু রাজনৈতিক দল বা এনজিও নয়, এমন অ্যাকাউন্টের ভিউয়ারশিপ ২.৭ কোটি।’ নিশিকান্তের অভিযোগ, নতুন বা অচেনা অ্যাকাউন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নীতির কারণেই এমন হচ্ছে। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে তৈরি একটি সংরক্ষণ বিরোধী ফোরামের ভিউয়ারশিপও প্রায় ৭০ লক্ষে পৌঁছে গিয়েছে।
প্রশ্ন: বিতর্কের সূত্রপাত কীভাবে?
উত্তর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য তৈরি একটি সেলফি ভিডিয়ো কয়েক ঘণ্টার জন্য ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তা ফিরিয়ে আনা হলেও বিতর্ক শুরু হয়।
প্রশ্ন: মেটা কী বলেছে?
উত্তর: সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মেটার প্রতিনিধিরা এই ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
প্রশ্ন: নিশিকান্ত দুবের দাবি কী?
উত্তর: তাঁর দাবি, মেটার প্রতিনিধিদের নয়, সংস্থার সিইও মার্ক জুকারবার্গকেই ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।
প্রশ্ন: 'সেফ হারবার' প্রত্যাহারের দাবি কেন?
উত্তর: নিশিকান্তের মতে, জুকারবার্গ ক্ষমা না চাইলে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় মেটা যে আইনি সুরক্ষা পায়, তা প্রত্যাহার করা উচিত।
প্রশ্ন: 'সেফ হারবার' কী?
উত্তর: এটি এমন একটি আইনি সুরক্ষা, যার ফলে ব্যবহারকারীর পোস্ট করা কনটেন্টের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়ী করা যায় না, যদি তারা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।
প্রশ্ন: অ্যালগরিদম নিয়ে নিশিকান্তের অভিযোগ কী?
উত্তর: তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক দলগুলির তুলনায় নতুন বা অ-নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টগুলির কনটেন্ট বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
প্রশ্ন: ২০২৫ সালের বিতর্কের প্রসঙ্গ কেন উঠল?
উত্তর: নিশিকান্ত দুবে স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৫ সালে মার্ক জুকারবার্গ ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। সেই মন্তব্যের পর মেটার তরফে ক্ষমা চাওয়া হয়েছিল।