• তারকেশ্বর মন্দিরে রেকর্ড পুণ্যার্থীর ভিড়, পোস্ট ঘিরে বিতর্ক
    এই সময় | ০৪ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, তারকেশ্বর: শ্রাবণের তৃতীয় সোমবার ভক্তদের ঢল নামল তারকেশ্বর মন্দিরে। পুলিশ প্রশাসনের দাবি, অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে এ দিন আনুমানিক ৩০ লক্ষ ভক্ত সমাগম হয়েছে হুগলির শৈব তীর্থে। ভিড়ের চাপে অনেকেই মন্দির পর্যন্ত পৌঁছতেই পারেননি। ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে।

    শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি গণেশ চক্রবর্তীর সঙ্গে তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পানের বিবাদ আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল। এ বার গণেশের একটি বিতর্কিত পোস্ট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ক্ষোভউগরে দিয়েছেন বিজেপির এই প্রবীণ নেতা।

    পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'বিজেপিতে যাঁরা ২০১৯ কিংবা তারও অনেক আগে থেকে লড়াই দিয়েছেন, আজ তাঁরাই কোণঠাসা। কিছু অসাধু লোকজন, যাঁরা ৪ তারিখের পরে এলো, তাঁরাই দলের সব ক্ষমতা ভোগ করছেন।' তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, 'যাঁরা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, জেল খেটেছেন, লাঠির আঘাত সহ্য করেছেন, তাঁদের কি কোনও মূল্য নেই? মূল্যায়ন কি হবে না? ত্যাগীদের সম্মান দিন, পরিশ্রমীদের মূল্য দিন। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করুণ।'

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের ব্যাখ্যা, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে নতুনদের দাপটে তাঁর মতো দলের পুরোনো নেতারা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। তা নিয়ে একরাশ অভিমান ঝরে পড়েছে গণেশের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে। গত বিধানসভা ভোটের সময় থেকেই সন্তু পানের সঙ্গে গণেশের ঠাণ্ডা লড়াই চলছে। শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে সেই ফাটল আরও চওড়া হয়। তারকেশ্বরে পুরোনো ও নব্য বিজেপি নেতাদের দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তা নিয়ে রীতিমতো অস্বস্তিতে শাসক শিবির। বিজেপি সূত্রের খবর, দু'পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে দলের রাজ্য নেতৃত্বের কাছে নালিশ ঠুকেছেন।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভা ভোটের আগে পর্যন্ত তারকেশ্বরে বিজেপির অন্যতম প্রথমসারির নেতা ছিলেন গণেশ। অসময়ে দলের হাল ধরেছিলেন তিনি। সেজন্য দলের পুরোনো কর্মী-সমর্থকরা গণেশকে বিশেষ ভাবে পছন্দ করেন। কিন্তু গত বিধানসভা ভোটে সন্তু পান জয়ী হওয়ার পরে তাঁর হাত ধরে অনেকেই দলে ঢুকেছেন। তাঁদের একটা বড় অংশই আবার বিধায়কের অনুগামী। দল ভিতরে ও বাইরে কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে গণেশ ও সন্তুর মধ্যে জোর টানাপড়েন চলছে।

    এর আগে শ্রাবণী মেলার আয়োজনে অব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাম না করে বিধায়ককে একহাত নিয়েছিলেন গণেশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছিলেন, তারকেশ্বরে এসেছেন একজন ভণ্ড সাধুবাবা (শ্রাবণী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাধুবাবার বেশে দেখা গিয়েছিল সন্তুকে)। শ্রাবণী মেলার সময় দোকান দিতে না পারার জন্য হকারদের নিয়ে থানায় বিক্ষোভকর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন তিনি। তা নিয়ে সমালোচকদের বিরুদ্ধে পাল্টা সরব হয়েছেন সন্তু। শ্রাবণী মেলা এ বার সুন্দরভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় তাঁর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়েই কেউ কেউ তাঁর বিরোধিতা করছেন বলে দাবি করেছেন সন্তু।

    শ্রাবণী মেলার সময় তারকেশ্বর মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢালতে আসা পুণ্যার্থীদের স্পেশাল লাইনে ঢোকানোর নাম করে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো পোস্ট করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেকে। তা নিয়ে সমালোচকদের পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সন্তু। তিনি বলেন, 'অপপ্রচার করবেন না। যাঁরা অপপ্রচার করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

  • Link to this news (এই সময়)